Our social:

Latest Post

Friday, 22 July 2011

পাম জুমেইরাহ- সাগরের বুকে পাম ট্রি (বিস্ময়কর স্থাপনা-১)

দুবাই, পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় এক জায়গা। অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এক পর্যটন স্পট। এই দুবাইয়ের আকর্ষণীয়
স্থানগুলোর মধ্যে একটি হল তাল গাছ সদৃশ কৃত্তিম দ্বীপ, পাম জুমেইরাহ। বিস্ময়কর এই স্থাপনার কথাই আমরা আজ জানব।



আরব আমিরাত আরব সাগরের উপকুলে অবস্থিত তেল সমৃদ্ধ একটি দেশ। সোনার জন্যও বিখ্যাত এটি। আরব আমিরাতের অর্থনীতি
তেলের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৬০ এর মধ্যে ফুরিয়ে যাবে তেলের ভাণ্ডার। তাই বাদশাহ শেখ মুহাম্মদ বিন আল মাখতুম অর্থনীতি তিকিয়ে রাখতে নযর দিলেন পর্যটন খাতে। দুবাই আরব আমিরাতের প্রধান পর্যটন শহর। দুবাইতে রয়েছে অসাধারন বীচ, বিলাসবহুল হোটেল, অত্যাধুনিক শপিং মল সহ আকর্ষণীয় সব পর্যটন স্পট। প্রতি বছর ৫ মিলিয়ন পর্যটক দুবাইয়ের বীচে বেরাতে আসে। এই সংখ্যাকে বারিয়ে ৩ গুন অর্থাৎ ১৫ মিলিয়ন পর্যটককে আকর্ষণ করতে চায় দুবাই। কিন্তু দুবাইয়ের বীচের দৈর্ঘ্য ৭২ কিমি.। যা এই বাড়তি লোকের জন্য যথেষ্ট নয়। সমাধান একটিই, বীচের দৈর্ঘ্য বাড়ানো। কিন্তু কিভাবে?


এই প্রস্নের সমাধান করলেন বাদশাহ কৃত্বিম দ্বীপের পরিকল্পনার মাধ্যমে। এই দ্বীপের ডিজাইন বের করার দায়িত্ব দেয়া হল নিখিল গ্রুপের চেয়ারম্যান সুলতান আহমদ বিন সুলেইম কে। সুলতান আহমদ বিন সুলেইম একটি কাগজে একটি বৃত্ত একে হিসেব করে দেখলেন বীচের দৈর্ঘ্য ৭ কিমি. বেরে গেছে। তিনি আনন্দে উদ্বেলিত হলেন। কিন্তু বাদশাহর জন্য এটি যথেষ্ট ছিল না। তাই তিনি নিজেই কাগজ-কলম নিয়ে বসে পরলেন ডিজাইন করতে। বিভিন্ন আকার-আকৃতি নিয়ে চিন্তা করতে করতে অবশেষে তাল গাছের ডিজাইন তার মাথায় আসলো। হিসেব করে দেখা গেল এর ফলে বীচের দৈর্ঘ্য ৫৬ কিমি. বেরে গেল। অবশেষে এই ডিজাইনে তৈরি হল পাম জুমেইরাহ।



পাম জুমেইরাহ ৫.৫ বর্গ কিমি. জায়গা জুড়ে অবস্থিত। এর চারিদিকে ১১.৫ কিমি. এর দেয়াল এবং ২.৫ মিটার উঁচু দেয়াল আছে যা বালি ও পাথর দিয়ে তৈরি।মুল দ্বীপ খণ্ডটিও শুধু বালু দিয়ে তৈরি। মোট ৯৪ মিলিয়ন ঘন মিটার বালু ও ৫.৫ মিলিয়ন পাথর ব্যবহৃত হয়েছে। দুবাই তে মরুভূমি থাকলেও মরুভূমির বালু এই স্থাপনার জন্য সঠিক উপাদান নয়। কারন মরুভুমির বালু অতি সুক্ষ যা সহজেই পানিতে ধুয়ে যাবে। সমাধান সাগরের পানির নিচের বালি যা জমাট বাধতে সক্ষম। তাই দ্বীপ গঠনে সমুদ্র তলের বালুই ব্যবহার করা হল। 
      
এধরনের একটি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন ১৫ বছর। কিন্তু বাদশাহ সময় দিলেন মাত্র ৫ বছর। অগাস্ট ২০০১ শুরু হয় এর নির্মাণ। মোট ৯ টি বারজার, ১৫ টি ট্যাঙ্কবোট, ৪ টি ড্রেজার, ৩০ টি ভারি হ্যান্ড বেইস মেশিন এবং ১০ টি ভাসমান ক্রেইন। ২.৫ বছর ধরে ৪০০০০ কর্মীর রাত দিন ২৪ ঘণ্টা পরিশ্রমের ফলে অস্তিত্ব পায় পাম জুমেইরাহ।


পাম জুমেইরাহ এর বাইরে ১১.৫ কিমি. ব্যাপি ২.৫ উচু দেয়াল ছিল খুব কঠিন একটি কাজ। প্রথমে ৭.৪ মিলি. পুরু বালির স্তর তৈরি করে এরপর পাথর দিয়ে তা পানির উপরে প্রায় ৩ মিটার উঁচু করা হয়েছে। মোত ৫.৫ মিলিয়ন ঘন মিটার পাথর ব্যবহৃত হয়েছে যা দিয়ে দুইটি মিশরিও পিরামিড বানান সম্ভব। প্রতিটি পাথরের ওজন ৬ টন। দেয়াল তৈরির সময় প্রতি ২৭ মিটার অন্তর অন্তর একজন ডুবুরি পরিক্ষা করে দেখতেন প্রতিটি পাথর ঠিক জায়গায় বসেছে কিনা।সামান্য ভুল ভণ্ডুল করে দিতে পারে ১২.৩ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প।


পাম জুমেইরাহতে মোট ৪৫০০ বাড়ি, এপার্টমেন্ট আছে এবং এতে মোট ৫০০ পরিবার থাকতে পারে। সবচেয়ে ব্য্যবহুল বাড়ির দাম ১.২ মিলিয়ন ডলার। পাম জুমেরাহ জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার মাত্র ৩ দিনের মধ্যে সমস্ত বাড়ি বিক্রি হয়ে যায়।

২০০৮ সালে সম্পূর্ণ ভাবে শেষ হয় পাম জুমেইরাহ এর নির্মাণ কাজ। প্রযুক্তির অগ্রগতির এক অনন্য নিদর্শন হয়ে আছে এই পাম জুমেইরাহ।
 
 

বিশ্বের ১০টি বিস্ময়কর ব্রিজ! - পর্ব ৩

৬। Wind and Rain Bridge (China) : এই ব্রিজটি তৈরি করেছে চায়নার Dong minority. Dong minority হল চায়নার রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত ৫৬ টি minority গ্রুপের মধ্যে একটি। ব্রিজটির অবস্থান চায়নার Guizhou Province এ যেখানে Dong minority এর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক লোক বাস করে।

ব্রিজটির দৈর্ঘ্য ৫০ মিটারেরও বেশি এবং এটি প্রথম ১৮৯৪ সালে নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ১৯৫৯ সালে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্রিজটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ১৯৬৪ সালে ব্রিজটি নতুনভাবে সংস্কার করা হয়।











৭। Magdeburg Water Bridge : ১৯৯৭ সালে শুরু হওয়া এবং ২০০৩ সালের অক্টোবর মাসে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়া এই ব্রিজটি জার্মানীতে অবস্থিত। এটি জার্মানির দুটি প্রধান shipping canal অর্থাৎ Elbe-Havel Canal এবং Midland Canal দুটোকে একত্রিত করেছে।

ব্রিজটি ৯১৮ মিটার লম্বা এবং ৩৪ মিটার চওড়া। ব্রিজটির নির্মাণ ব্যয় ৫০০ মিলিয়ন ইউরো।







৮। Ponte Vecchio : ইতালির ফ্লোরেন্সে অবস্থিত এই ব্রিজটি একটি মধ্যযুগীয় ব্রিজ যা Arno নদীর ওপর তৈরি করা হয়েছে। এই ব্রিজটির পাশেই যে দুটো ব্রিজ আছে সেগুলো হল Ponte Santa Trinità এবং Ponte alle Grazie.

ব্রিজটি প্রথমে কাঠ দিয়ে তৈরি করা হলেও ১৩৩৩ সালে এটি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বার বছর পরে এটিকে পাথর দিয়ে পুনরায় তৈরি করা হয়।

ব্রিজটি ইতালির প্রধান এবং জনপ্রিয় টুরিস্ট স্পটগুলোর মধ্যে একটি এবং এটির প্রধান একটি বৈশিষ্ট্য হল এটিকে ঘিরে গড়ে ওঠা অসংখ্য দোকানের সারি। যদিও প্রথমদিকে কেবল কসাইরা এখানে স্থান করে নিয়েছিল কিন্তু এখন এখানে মূলত বসবাস জুয়েলারী, চিত্রকর্ম এবং স্যুভনির বিক্রেতাদের।













পোস্টটি এখান থেকে কপি করা

বিশ্বের ১০ টি বিস্ময়কর ব্রিজ (পর্ব - ২)

৪। Hangzhou Bay ব্রিজ: ইস্টার্ণ চায়নায় অবস্থিত এই ব্রিজটি একটি হাইওয়ে ব্রিজ। মূলত এটি Zhejiang প্রদেশের Jiaxing এবং Ningbo এই দুটো মিউনিসিপ্যালিটিকে যুক্ত করেছে। এটি বিশ্বের সর্বাপেক্ষা বড় trans-oceanic ব্রিজ যার দৈর্ঘ্য হল ৩৫.৬৭৩ কিলোমিটার (২২ মাইল)!!!







ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ৮ জুন, ২০০৩ সালে। ১৪ জুন, ২০০৭ সালে কাজ সমাপ্ত হয়েছিল এবং ২৬ জুন, ২০০৭ সালে মিডিয়া ফ্যানদের জন্য একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও আয়োজিত হয়েছিল। কিন্তু ব্রিজটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় ১ মে, ২০০৮ সাল থেকে। ব্রিজটি Ningbo এবং Shanghai শহরের মধ্যকার যাত্রাপথের দূরত্ব ৪০০ কিলোমিটার থেকে ১২০ কিলোমিটারে নামিয়ে এনেছে। তাছাড়া এই দুই শহরের মধ্যকার যাত্রা সময় ছিল ৪ ঘন্টা যা ব্রিজটি তৈরি হবার পর ২.৫ ঘন্টায় নেমে এসেছে।





ব্রিজটিতে সর্বোচ্চ গতিসীমা হল ১০০ কিলোমিটার/ঘন্টা (৬২ মাইল/ঘন্টা) এবং এটিকে ১০০ বছরের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।







----------------------------------------------------------------------------------



৫। Millau Viaduct ব্রিজ: ফ্রান্সের Millau তে অবস্থিত এই ব্রিজটি বৃহদাকার cable-stayed রোড ব্রিজ যা Tarn নদীর পুরো উপত্যকা জুড়ে আছে। Michel Virlogeux এবং Norman Foster এই ব্রিজের ডিজাইন করেছেন। যানবাহন চলাচলের জন্য যত ব্রিজ আছে তন্মধ্যে এই ব্রিজটি সর্বাপেক্ষা উঁচু। এর একটি শীর্ষ ১১২৫ ফুট উঁচু ( যা আইফেল টাওয়ারের চেয়ে একটু উঁচু এবং Empire State Building অপেক্ষা মাত্র ৩৮ মিটার নীচু!!!!)। সুতরাং বুঝতেই পারছেন এর উচ্চতা।





তিন বছর সময়কাল ধরে তৈরি করা ব্রিজটি ১৫ ডিসেম্বর, ২০০৪ সালে উদ্বোধন করা হয় এবং তার দুদিন পরেই পাবলিকের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। বলা হয়ে থাকে যে, এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করা আর আকাশে ওড়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করা প্রায় একই ব্যাপার!!!!!!






ব্রিজটির মোট রোড দৈর্ঘ্য হল ২৪৬০ মিটার। এটি নির্মানে ব্যয় হয়েছিল ৪১৪ মিলিয়ন ইউরো!!! ব্রিজটির লাইফটাইম ১২০ বছর।


































 

পোস্টটি এখান থেকে কপি  করা

বিশ্বের ১০ টি বিস্ময়কর ব্রিজ (প্রথম পর্ব)


এই পোস্টে পৃথিবীতে তৈরি ১০ টি অত্যাশ্চর্য সুন্দর, দৃষ্টিনন্দন এবং আকর্ষণীয় ব্রিজ এর পরিচিতি তুলে ধরার চেষ্টা করলাম। এটা প্রথম পর্ব যেখানে তিনটি ব্রিজ সম্পর্কে তথ্য দেয়া হল। বাকিগুলো অন্যান্য পর্বে ধারাবাহিকভাবে দেয়া হবে।


১।
Banpo Bridge:

Banpo Bridge দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অবস্থিত। এটি Han নদীর ওপর তৈরি করা হয়েছে। Seocho এবং Yongsan এই দুটো জেলাকে ব্রিজটি সংযুক্ত করেছে।


এই ব্রিজটির মজার ব্যাপার হল এটি অন্য একটি ব্রিজের ওপর অবস্থিত যার নাম হল Jamsu Bridge. এভাবে এ ব্রিজদ্বয় আসলে একটি "ডাবল ডেক" ব্রিজ হিসেবে কাজ করে। Jamsu Bridge এর বৈশিষ্ট্য হল এটি সম্পূর্ণরুপে পানির নিচে ডুবে যেতে পারে যখন water level বেড়ে যায়।


Banpo Bridge টি যদিও ২৭ বছর পূর্বে (১৯৮২ সালে) নির্মাণ করা হয়েছিল, এটি একটি দৈত্যাকার রংধনুর ঝর্ণায় পরিণত হয়েছে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যখন এই ব্রিজের উভয় পার্শ্বে ১০,০০০ LED nozzle স্থাপন করা হয়েছে!‍!! এই nozzle গুলো প্রতি মিনিটে ১৯০ টন পানি নির্গমন করতে পারে যা ব্রিজটিকে একটি প্রকৃত রংধনুর ঝর্ণার মত চেহারা দেয়!!! পানি Han নদী থেকেই সরাসরি পাম্প করে উত্তোলন করা হয় এবং প্রতিনিয়ত রিসাইকেল করা হয়। এ ধরনের প্রজেক্ট সারা বিশ্বে এটাই প্রথম।























----------------------------------------------------------------------------------


২। Oliveira Bridge:


ব্রিজটির পুরো নাম Octavio Frias de Oliveira bridge. ব্রাজিলের São Paulo তে অবস্থিত এই ব্রিজটি একটি Cable-stayed ব্রিজ। Cable-stayed বলতে বুঝায় এমন ব্রিজ যেটি একাধিক কলাম দ্বারা তৈরি হয় কিন্তু ব্রিজের ডেক সাপোর্ট দেয়া হয় ক্যাবল দ্বারা। ব্রিজটির অবস্থান Pinheiros নদীর ওপর এবং এটি উদ্বোধন করা হয় ২০০৮ সালের মে মাসে। ব্রিজটি ৪৫০ ফুট (১৩৮ মিটার) লম্বা।


ব্রিজটির আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে এর শেপ বা আকৃতি যা ইংরেজি অক্ষর "X" এর মত!!! এই ব্রিজটি বিশ্বের একমাত্র ব্রিজ যার দুটি বাঁকা ট্র্যাক আছে এবং উভয় ট্র্যাকই একটি single concrete mast দ্বারা সাপোর্টেড।


প্রতি ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে ক্যাবলগুলো বিভিন্ন রঙে আলোকিত করা হয় যাতে সেখানে ক্রিসমাস ট্রি এর মত একটা এফেক্ট তৈরি হয়। তাছাড়া বছরের অন্যান্য সময়ও বিশেষ বিশেষ উপলক্ষ্যে ব্রিজটি আলোকিত করা হয়। টেলিভিশনে বিভিন্ন অটোমোবাইল অ্যাডের জন্য ব্রিজটি হরহামেশাই ব্যবহৃত হয়।































----------------------------------------------------------------------------------

৩। Henderson Waves:

এই ব্রিজটি একটি পথচারী পারাপার ব্রিজ। সিঙ্গাপুরে অবস্থিত এই ব্রিজটির দৈর্ঘ্য ২৭৪ মিটার (৯০০ ফুট)। Henderson রোডের ১৩৬ মিটার ওপরে অবস্থিত এই ব্রিজটি সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় পথচারী পারাপার ব্রিজ।


এটি Mount Faber Park এবং Telok Blangah Hill Park এই দুটো পার্ককে যুক্ত করেছে। এই ব্রিজটির ডিজাইন করেছে IJP Corporation, London, and RSP Architects Planners এবং Engineers (PTE) ltd Singapore.


ব্রিজটিতে একটি wave-form আছে যা সাতটি undulating curved steel ribs দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। এই wave-form টি LED lamp দ্বারা প্রতিদিন রাতে 7 pm থেকে 2 am পর্যন্ত আলোকিত রাখা হয়।





















এখান থেকে কপি করা