Our social:

Latest Post

Sunday, 10 April 2011

ইসলামী বই

  1. ZwfoyËk iw’AwËkfÖl ÌKwkAwd  iÖfZy m’fy Doiwdy (k:) 
  2. ZwfoyËk iw’AwËkfÖl ÌKwkAwd  iÖfZy m’fy Doiwdy (k:)
  3. ZwfoyËk iw’AwËkfÖl ÌKwkAwd (সংক্ষিপ্ত)  iÖfZy m’fy Doiwdy (k:)
  4. opyp gÖLwky mkyf Biwi gÖLwky (k:)
  5. AwxLkwZ  Biwi MwŒwly (k:)
  6. RgwËdk qxZ  Biwi MwŒwly (k:)
  7. mwxìæk Awmw I mwxþæk ht  Biwi MwŒwly (k:)
  8. GpBtwD DlÖiÖ¥yd  Biwi MwŒwly (k:)
  9. xKxitwËt mw’Awbwu (Ìo#hwËMøk ekmixY)  Biwi MwŒwly (k:)
  10. oóeËbk Ìlwh I jwZdw  Biwi MwŒwly (k:)
  11. iÖKwmòwfwZÖl KÖlÖg (AwZôwk AwËlw)  Biwi MwŒwly (k:)
  12. AWêwxkv †W G« fkxgxWv Bxhl  Biwi MwŒwly (k:)
  13. ogk I ÌmwKk  Biwi MwŒwly (k:)
  14. oÙxÄ bmêd  Biwi MwŒwly (k:)
  15. AwZôoieêd  Biwi MwŒwly (k:)
  16. iwKZÖgwZ mkyf  iwIlwdw AwgÖl pwowd Awly dbhy (k:)
  17. ZIgwk DeKwxkZw I †dw oiÖp  iwIlwdw AwËmËK Glwpy gÖlëb mwpky (k:)
  18. AwmkwfÖl RItwg  iwIlwdw Awmkwf Awly awdhy (k:)
  19. ÌgËpmZy ÌRIk  iwIlwdw Awmkwf Awly awdhy (k:)
  20. iÖpiôb (o:) Gk Rygd I Pxk¢  iwIlwdw Awmkwf Awly awdhy (k:)
  21. BolwpÖk kØoÖi  iwIlwdw Awmkwf Awly awdhy (k:)
  22. iwËkfu Gk iiêKaw  iwIlwdw Awmkwf Awly awdhy (k:)
  23. KÖkAwd I pwbyËok AwËlwËK ewxkgwxkK Rygd  iwIlwdw Awmkwf Awly awdhy (k:)
  24.  iÖoliwËdk pwxo  iwIlwdw Awmkwf Awly awdhy (k:)
  25.  mkytËZk bÙxÄËZ ebêw  iwIlwdw Awmkwf Awly awdhy (k:)
  26. LÖugwZÖl AwpKwi  iwIlwdw Awmkwf Awly awdhy (k:)
  27. iwItwËtËR Awmkwxftw iwIlwdw Awmkwf Awly awdhy (k:)
  28. iÖoliwËdk mwxìæ  iwIlwdw Awmkwf Awly awdhy (k:)
  29. BolwpÖl iÖoxliyd  iwIlwdw Awmkwf Awly awdhy (k:)
  30. BolwpÖl xdoItwd  iwIlwdw Awmkwf Awly awdhy (k:)
  31. BolwËik AwËlwËK xmmÖ-ewld  iwIlwdw Awmkwf Awly awdhy (k:)
  32. Kiêfl  iwIlwdw Awmkwf Awly awdhy (k:)
  33. AwbwgÖl iÖ’AwmwkwZ  iwIlwdw Awmkwf Awly awdhy (k:)
  34. Zwx¹pÖl MwxflÖd  Biwi fKyp AwgÖl oikLëby (k:)
  35. MygZz  AwÁwiw RwlwlÖ¥yd oÖtÖZy (k:)
  36. Ròyd RwxZk BxZpwo  AwÁwiw RwlwlÖ¥yd oÖtÖZy (k:)
  37. KwowËtQÖl KÖgÖkw  AwÁwiw RwlwlÖ¥yd oÖtÖZy (k:)
  38. iÙZøÖk ek (Kgk, ÌgËpmzZ, ÌbwjL)   AwÁwiw RwlwlÖ¥yd oÖtÖZy (k:)
  39. Kwoybw-B-gÖkbw  Biwi gÖxoky (k:)
  40. bwItwËZk oxVK eìÿw  iwIlwdw Bxltwo (k:)
  41. kQÖlÖÁwp(ow:) Gk  AwbwlZ  Biwi KÖZêÖgy(k:)
  42. pÖ~Öl iÖþæfw (ow:) iÖfxZ iwpiÖb pwowd MwŠÖly (k:)
  43. xhx£pyd AxhËjwM I Zwpwk D£k - ZwglyM  iwIlwdw idRÖk Ìdwiwdy (k:)
  44. pjkZRy iwIlwdw iÖpwiôb Bxltwo (k:)  iwIlwdw iÖpyD¥yd Lwd
  45. Biwi MwŒwlyk xPxVe¢  iwIlwdw iÖpyD¥yd Lwd
  46. xktwbÖo owËlpyd  Biwi dItwgy (k:)
  47. BxZpwËok xgPwËk pjkZ iÖ’Awxgtw  iÖfxZ Zw’xK Doiwxd
  48. Awed Nk gwPwd  iÖfxZ Zw’xK Doiwxd
  49. iwRpwg-xK I ÌKd  iÖfxZ Zw’xK Doiwxd
  50. xgmògøwxe ZwglyM Awiwk KwR  iwIlwdw Dik ewlwdeÖky (k:)
  51. pwtwZÖo owpwgwp (kw:)  iwIlwdw BDoÖf Kwëblhy (k:)
  52. iÖìæwLwg (xdgêwxPZ pwxbo oiÖp)  iwIlwdw BDoÖf Kwëblhy (k:)
  53. owpwgw (kw:) PxkZ  iwIlwdw jwKwxktw (k:)
  54. ZwgxlMy RwiwËZk oiwËlwPdw I Rgwg  iwIlwdw jwKwxktw (k:)
  55. fwRwËtËl Awil  gøwLøw: iwIlwdw jwKwxktw (k:)
  56. BolwËi dwky  fxkb ÌgRby AwËfëby
  57. bÖlêh HxZpwxoK Zaøwgly  iwIlwdw ÌMwfkwd kxmby xKkwdhy
  58. 500 pwbyo I CiwËdk 77 mwLw  iwIlwdw ÌpwowBd AwpËib
  59. ËgËpozZ I AwÁwpk ipZò  iwIlwdw ZwxkK Rwiwl
  60. iÙZøÖk IewËk  iwIlwdw ZwxkK Rwiwl
  61. eÞai xbËdk oÔjêø  iwIlwdw ZwxkK Rwiwl
  62. ËK ÌoB Rd?  iwIlwdw ZwxkK Rwiwl
  63. xZËgµ dggy  pwxfR dRk AwpËib
  64. dwiwR I kwQÖlÖÁwp (ow:)  Gi Gd dÖk DÁwp Awjwb
  65. Awbmê iw  iÖfZy kØpÖl Awxid
  66. dgy (ow:) Gk xeÞt Ìbwtw  iwIlwdw mIKZDÁwp
  67. Biwi MwŒwly (k:)  iwIlwdw mIKZDÁwp
  68. ixplwËbk eÖküKwk  iwIlwdw owBËtøb Awpib Lwd
  69. Zakir Naik Book
  70. Guide to understand Islam 
  71. Women In Islam  Bangla  Translation
  72. Bangla Bukhari Shareef
  73. How to Learn Quran in Simple way  In Bangla 
  74. Ami keno Musolman by Abdul Mukit Muktar
  75. Muslim Bon O Porrad Hukum by Shah Oyaliullah
  76. Kobira Gunah by Imam Samsuddin Aj-Jahabi
  77. Islami Rastro Babosta by Abdul Karim Jaidan
  78. 500 Hadith and 77 Part of iman by Hazrat Moulana Hosain ahmed
  79. Arkanul Islam oyal Iman by Md. Bin Zamil Zainu
  80. Bisso Nobi Muhammader Jibonadarso by Dr. Ahmod Bin Usman
  81. Islami Akidah Bisoyok Guruttopuro Masala by Md. Bin Zamil Zainu
  82. Islami Mul Akidar Bisleshon by Md. Bin Saleh Al Usmain
  83. Kalema 'La Ilaha Illalah' by Abul Aziz bin Abdullah bin Baz
  84. Kivabe Towhider Disha Pelam by Md. Bin Zamil Zainu
  85. Makatib by Abul Hasan Ali Nadvi
  86. Meaning of 'La Ilaha Illalah'by Saleh bin Fowjan bin Abdullah
  87. Mononito Dhormo by Md. Abdur Rob Affan
  88. Mul Akidar Sonkhipto Porichoy by Dr. Naser Bin Abdul Karim
  89. Ses Dibos
  90. Sathik Dormo Bissas by Abdul Aziz bin Abdullah bin Baz
  91. Tawhider Kotipoy Guruttopurno Bisoy by Md. Samaun Ali
  92. 100 Susabbosto Sunnot
  93. Ahli Sunnot Jamater Akidah by Md. Saleh Uddin
  94. Allahor Ain Bastobayon by Abdul Aziz bin Abdullah bin Baz
  95. Bidyat Dorpon by Abdul Hamid Al Faiji
  96. Bidyat Theke Sabdhan by Abdul Aziz bin Abdullah bin Baz
  97. Sufibad by Md. Bin Zamil Zainu
  98. Vranto Tabij Koboj by Md. Bin Solaiman 

    মাযহাব সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা

    কবরে যা প্রশ্ন করা হবে
    পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ
    "কুল্লু নাফছিন যাইকাতুল মাউত।"
    অর্থাৎ "জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণকারী।" {সূরা আনকাবুত, ২৯:৫৭}

    অনুরূপ সূরা আল-ই-ইমরান {৩:১৮৫} এবং সূরা আল আম্বিয়ায় {২১:৩৫} উল্লেখ করা হয়েছে "জীব মাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে।"

    স্বাভাবিক নিয়মে আমাদের দুনিয়ার আয়ুষ্কাল যেদিন নিঃশেষ হয়ে যাবে সেদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আমাদেরকে কবরে রাখার পরপরই মুনকার-নকীর প্রশ্ন করবে, "বল, তোমার রব কে; তোমার দ্বীন কি" এবং রাসূলের (সঃ) সূরত মোবারক দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করবে, "ইনি কে?" তখন অথবা পরবর্তীতে হাশরেও কিন্তু জিজ্ঞাসা করা হবে না, "তোমার মাযহাব কি; তুমি কেন অমুক ইমামের তরীকা মোতাবেক চলনি" ইত্যাদি। বরং জিজ্ঞাসা করা হবে, "তুমি কেন রাসূলের (সঃ) নির্দেশিত তরীকা (বা মাযহাব) মোতাবেক চল নাই?"


    রাসূল (স.)-এর সালাত এবং সাধারণ মুসল্লীদের সালাত আদায়ের মধ্যে ভিন্নতার কারণ
    আমাদের দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের বাস্তব সালাত এবং রাসূলের (স.) সালাতের তরীকার মধ্যে সচরাচর অনেক পার্থক্য দৃশ্যমান হয়। অথচ সহীহ হাদীস অনুযায়ী রাসূলের (স.) সালাতের একটি মাত্রই নিয়ম ছিল। তবে কোন কোন সময় কোন কোন বিষয়ে কিঞ্চিৎ পার্থক্য দেখা দিত। যেমন, তিনি কখনো সালাতকে লম্বা করতেন আবার কখনো সংক্ষিপ্ত করতেন, এমনি ভাবে সিনার উপর হাত রাখার পর কখনো ডান হাতকে বাম বাহুর উপর রাখতেন, আবার কখনো কব্জির উপর রেখে ধরতেন, আবার কখনো হাতের উপর হাত রাখতেন। এমনি ভাবে রাফ'উল ইয়াদাইন করতে কখনো তিনি কাঁধ পর্যন্ত আবার কখনো কান পর্যন্ত হাত উঠাতেন। মোট কথা এই পার্থক্যগুলি ছিল শুধু বাহ্যিক কার্যভঙ্গি এবং লম্বা ও সংক্ষিপ্ত করার ব্যাপারে, কিন্তু কাজটি করার ব্যাপারে কোন পার্থক্য ছিল না। এই পার্থক্যের মূল কারণগুলি হল রাসূল (স.)-এর সালাত আদায় পদ্ধতি সম্বন্ধে অজ্ঞতা, মাযহাবগত ভ্রান্ত ধারণা ও সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি।

    ইসলামে বিভিন্ন দল/ফিরকা সৃষ্টি
    রাসূল (স.) বলেছেন, "বনী ইসরাঈল বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল, আর আমার উম্মত তিহাত্তর দলে বিভক্ত হবে।" সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল (স.), সে দল কারা?" উত্তরে রাসূল (স.) বললেন, "আমি এবং আমার সাহাবাগণ যে তরীকার উপর চলছে, যে দল সেই তরীকা মত চলবে সেই দলই বেহেশতী।" (তিরমিজী)

    রাসূল (স.)-এর পর খোলাফায়ে রাশেদীন এই কোরআন ও সুন্নাহর জীবন ব্যবস্থার উপর কায়েম ছিলেন, এক চুল পরিমাণও ব্যতিক্রম ঘটতে দেননি। পরবর্তীকালে অন্যান্য সাহাবা ও তাবেয়ীগণও কোরআন ও সুন্নাহর মধ্যে কিছুমাত্র রদবদল হতে দেননি। বরং রাসূল (স.)-এর কোন হাদীস তাঁদের সম্মুখে উপস্থিত হলে বিনা শর্তে তা মেনে নিতেন। সাজাবা কেরাম ও তাবেয়ীগণের পরবর্তী যুগে যেমন নানা দেশের, নানা বর্ণের, নানা ধর্মের লোক ইসলামের পতাকা তলে আসতে লাগল তেমনি তাদের সঙ্গে সঙ্গে নানা ধর্মমত ও দার্শনিক মতবাদও আসা শুরু হল। ফলে, মুসলিমগণ নীতিগতভাবে এক আল্লাহকে সার্বভৌম শক্তির অধিকারী ও তাঁর রাসূল (স.)-কে একমাত্র নেতা বলে স্বীকার করলেও কার্যতঃ তারা বিভিন্ন সম্প্রদায়ে বিভক্ত হয়ে ইসলামের প্রকৃত নীতি হতে সরে যেতে লাগল এবং কোনো কোনো সম্প্রদায় একেবারে ইসলামের গন্ডীর বাইরে চলে গেল। ফলে, মুসলিম জাতীয় জীবনে ভাঙ্গন শুরু হল। তারা রাসূল (স.)-এর নেতৃত্ব ত্যাগ করে বিভিন্ন নেতার অধীনে ভিন্ন ভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়ল। এভাবে ইসলামে শুরু হল ফিরকাবন্দী। অখন্ড ইসলাম হয়ে গেল খন্ড বিখন্ড।

    বিভিন্ন দল/ফিরকার সংখ্যা
    হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) তাঁর "৭৩ ফিরকার বিবরণ" গ্রন্থে সমগ্র মুসলিমগণকে প্রথমতঃ ১০ ভাগে বিভক্ত করেছেন, যথা- (১) আহলে সুন্নাত, (২) খারিজী, (৩) শিয়াহ, (৪) মুতাজিলা, (৫) মুরজিয়া, (৬) মুশাব্বিয়া, (৭) জাহমিয়া, (৮) জরারিয়াহ, (৯) নাজ্জারিয়া এবং (১০) কালাবিয়াহ।

    উপরোক্ত দলগুলির মধ্যে মুক্তি পাওয়ার যোগ্য দল হল আহলে সুন্নাত কারণ একমাত্র এরাই কোরআন ও সুন্নাহ অবলম্বন ও অনুসরণ করে থাকেন এবং প্রমাণস্থলে উভয়কেই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন।

    অন্য ৯টি দল হতে বাহাত্তরটি উপদল বা ফিরকার সৃষ্টি হয়েছে। এ দলগুলো সাহাবাদের বহু জামানার পর সৃষ্টি হলেও কোন কোন সাহাবাদের জীবদ্দশায় দু একটি বিদ'আতের সূত্রপাত হয়েছিল। সাহাবাগণও সূত্রপাতের সঙ্গে সঙ্গেই ঘোর প্রতিবাদ করেছেন। একদিন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) শুনলেন যে কিছু লোক মসজিদে সমবেত হয়ে হালকাবদ্ধভাবে বসে (অর্থাৎ কয়েকজন গোল হয়ে বসে) লাইলাহা ইল্লাল্লাহু, সুবহানাল্লাহ ও দরূদ প্রভৃতি পাঠ করছে। এই খবর পাওয়া মাত্র তিনি মসজিদে এসে সমবেত লোকদের বললেন, "হে লোক সকল, রাসূল (স.)-এর ইন্তেকালের পর এখনও খুব বেশী দিন অতীত হয়নি, তাঁর পরিধেয় বস্ত্র এখনও বিদ্যমান রয়েছে, আর তোমরা এখনই তাঁর শরীয়তকে পরিবর্তন করতে আরম্ভ করে দিয়েছ? দেখ, আমি রাসূলের (স.) যামানায় এভাবে কলেমা ও দরূদ পাঠ করতে দেখিনি।" এভাবে সতর্কবাণী করতে করতে তিনি তাদের মসজিদ হতে তাড়িয়ে দিলেন।

    হযরত আবদুল কাদের জিলানী তাঁর উপরোল্লিখিত গ্রন্থে উক্ত নয়টি দল যে বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে সেগুলির নাম উল্লেখ করেছেন নিম্নোক্তভাবেঃ

    ১ম দল - খারেজী - এরা ১৫টি দলে বিভক্ত
    ২য় দল - শিয়া - ৩ দলে বিভক্ত, এই ৩টি দল আবার যথাক্রমে (i) ১২, (ii) ৬ ও (iii) ১৪টি উপদলে বিভক্ত
    ৩য় দল - মুতাজিলা - ৬টি দলে বিভক্ত
    ৪র্থ দল - মুর্‌জীয়া - ১২টি দলে বিভক্ত
    ৫ম দল - মুশাব্বিয়া - এরা ৩টি দলে বিভক্ত
    অবশিষ্ট ৪টি দল হল জহমিয়া বা জব্‌রিয়াহ, জরারিয়াহ, নজ্জারিয়াহ বা ছেফাতিয়াহ এবং কালাবিয়াহ।
    মোট ৭২ উপদল বা ফিরকা

    উপরোক্ত দল/উপদলগুলি বহু যামানা পরে সৃষ্টি হলেও কোন কোন সাহাবার জীবদ্দশায়ই দু একটি বিদ'আতের সূত্রপাত হয়েছিল। কিন্তু সাহাবাগণ সূত্রপাতের সঙ্গে সঙ্গেই এর ঘোরতর প্রতিবাদ করেছেন। (তরীকায়ে মোহাম্মদীয়া, ১ম খন্ড; মোহাম্মদ মতিউর রহমান মোহাম্মদী সালাফী)
    ফিরকা উদ্ভবের কারণ ও পরিণতি
    কোরআন ও হাদীসের ব্যবহারিক পতনের পটভূমিকায় পৃথিবীতে ফিরকাবন্দী বা দলীয় মাযহাব সমূহের আত্মপ্রকাশ শুরু হয়। বনী উমাইয়া শাসনের অবসানকাল অর্থাৎ নূন্যাধিক ১৫০ হিজরী পর্যন্ত কোন ব্যক্তি নিজেকে হানাফী, শাফেয়ী ইত্যাদি বলতেন না বরং স্ব স্ব গুরুগণের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কোরআন ও হাদীসের ব্যাখ্যা করতেন। আব্বাসীয়দের শাসনকালে সর্বপ্রথম প্রত্যেকেই নিজের জন্য পৃথক পৃথক দলীয় নাম নির্ধারিত করে নিতেন এবং নিজ গুরুদের নির্দেশ খুঁজে বের না করা পর্যন্ত কোরআন ও হাদীসের ব্যবস্থা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাতেন। সুতরাং মতভেদ দৃঢ়তর হল, মাযহাবের সূত্রপাত হল।

    মাযহাবের মহাব্যাধি মুসলমানগণের জাতীয় জীবনে প্রবেশ করায় সবচেয়ে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়েছিল শিয়া সম্প্রদায় ও দলপন্থী সুন্নীগণ। উত্তর কালে এই শিয়া সুন্নীর লড়াই আর মাযহাব চতুষ্টয়ের অন্ধ অনুসারীগণের উদ্দাম, অবিশ্রান্ত ও নির্মম গৃহযুদ্ধের ফলেই মুসলিমগণের উজ্জ্বল জাতীয় গৌরব অস্তমিত হয়ে যায়। ৩১৭ হিজরীতে একটি আয়াতের অন্তর্ভুক্ত মকামে মাহমুদের ব্যাখ্যা নিয়ে বাগদাদে হাম্বলী ও অপর তিন মাযহাবের অনুসারীগণের মধ্যে সংগ্রাম শুরু হয়, এই সংগ্রামে সৈন্য বাহিনী ও জনসাধারণও যোগ দেয় এবং শত সহস্র লোক হতাহত হয়। ৩২৩ হিজরীতে হাম্বলী ও শাফেয়ীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়ে ৭ বৎসর পর্যন্ত চলে। ৩৯৮ হিজরীতে বাগদাদ শহরে সুন্নী ও শিয়াগণের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষ সংঘটিত হয় এবং যুদ্ধে অসংখ্য লোক নিহত হয়। ইমাম কুশয়রী ৪৪৮ হিজরীতে বাগদাদে প্রবেশ করেন এবং আকীদা সংক্রান্ত খুঁটিনাটি নিয়ে তিনি হাম্বলীদের সঙ্গে বিবাদে প্রবৃত্ত হন, কারণ তিনি নিজে গোড়া আশাইরা মতবাদের ছিলেন। এই বিবাদ শেষে সংগ্রামে রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষে বহু লোক হতাহত হয়। এভাবে ৪৮৩ হিজরীতে বাগদাদ নগরে শিয়া ও সুন্নীগণের মধ্যে, ৫৫৪ হিজরীতে নেশাপুর শহরে হানাফী ও শাফেয়ীগণের মধ্যে, পুনরায় ৫৬০ হিজরীতে হানাফী শাফেয়ীদের মধ্যে, ৫৮৭ হিজরীতে মিসরে হাম্বলী ও শাফেয়ীগণের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ৬৫৫ হিজরীতে বাগদাদে শিয়া ও সুন্নীগণের মধ্যে সংঘর্ষে ভয়াবহ লুটতরাজ, হত্যাকান্ড চলে, বহু বাড়ীঘর বিধ্বস্ত হয়। এ ধরণের মাযহাবগত দলাদলি অন্যান্য মুসলিম দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং এই সুযোগ নিয়ে চীনের মঙ্গোলিয়া হতে আগত চেঙ্গীস খাঁ ও হালাকু খাঁ বাগদাদকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করে। ৬৫৬ হিজরীর ১২ই মুহাররম হালাকুর সৈন্যদল বাগদাদে প্রবেশ করে এবং ১৪ই সফর বুধবার খলীফাতুল মুসলেমীন শহীদ হন। খলীফার দুই পুত্র আমীর আবু বকর আহমদ ও আবুল ফাযায়েল আবদুর রহমানকে তাতারীরা নৃশংসভাবে হত্যা করে এবং খলীফার কন্যা ও পূর-মহিলাগণকে দাসীতে পরিণত করে।

    ডঃ সৈয়দ মাহমুদুল হাসান তাঁর রচিত ‘ইসলাম ও আধুনিক বিশ্ব’ পুস্তকে আব্বাসীয় খিলাফতের পতন ও হালাকু খানের বাগদাদের ধ্বংসযজ্ঞের বর্ণনা দিতে যেয়ে উল্লেখ করেছেন যে, সর্বশেষ আব্বাসীয় খলিফা আল-মুসতাসিম বিল্লাহ এর রাজত্বকালে শিয়া, সুন্নী এবং হানাফী ও হাম্বলী সম্প্রদায়ের দ্বন্দ্ব ও বৈষম্য চরম আকার ধারণ করে। খলিফা শিয়া সম্প্রদায়কে সমূলে উৎপাটিত করার জন্য অভিযান পাঠালে শিয়া মতাবলম্বী মন্ত্রী মুযাইদ উদ্দিন মুহম্মদ আলকামী হালাকু খানকে বাগদাদে আমন্ত্রণ জানিয়ে খলিফার উপর প্রতিশোধ গ্রহণের সংকল্প করেন। হালাকু খান ১২৫৮ খৃঃ বাগদাদে অভিযান করেন। দীর্ঘ চব্বিশ দিন অবরোধের পর খলিফা তার পরিবার-পরিজনসহ হালাকু খানের কাছে আত্মসমর্পণ করে প্রাণ ভিক্ষা চান। কিন্তু হালাকু খান বাগদাদ দখলের দশ দিনের মধ্যে খলিফা ও তার পরিবারবর্গকে হত্যা করে। হালাকু খানের খৃষ্টান মন্ত্রী ডকুজ (Doquz) এবং শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত লোক ব্যতীত প্রায় ২০ লক্ষ লোক মাত্র ছয় সপ্তাহে মোঙ্গল বাহিনীর বর্বরতা ও হত্যাকান্ডের শিকার হয়। কথিত আছে যে, তিন দিন ধরে নগরীর রাজপথগুলিতে রক্তের স্রোত প্রবাহিত হয় এবং ইউফ্রেটিস নদীর পানি রক্তে রঞ্জিত হয়ে যায়। ঐতিহাসিক গিলম্যান বলেন, “এভাবে শতসহস্র নিহতের গগণভেদী আর্তনাদ এবং বর্বর বিজয়োন্মত্ত মোঙ্গলদের প্রকট উন্মাদনায় যে বাগদাদ পাঁচশত বৎসর ধরে শিল্প, বিজ্ঞান এবং সাহিত্যের গৌরবোজ্জল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল তা চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যায়। ৬৩২ খৃঃ রাসূল (স.)-এর ওফাতের পর মদীনায় যে খিলাফতের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল তা দীর্ঘ ছয় শতাব্দীরও বেশী সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে চলার পর ১২৫৮ খৃঃ মোঙ্গলদের আক্রমণে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এর ফলে শুধু একটি সাম্রাজ্যেরই পতন হল না, একটি সভ্যতারও অবসান হল।

    মোঙ্গল আক্রমণের ফলে সুন্নী ইসলামের বিপর্যয় ঘটে। শিয়া ও সুন্নীদের বিরোধ চরম আকারে দেখা দেয়। মুসতাসিমের খিলাফতে শিয়া প্রধান উজীর আলকামী হালাকু খানের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করার প্রয়াস পান এবং এর মূলে ছিল সুন্নী ইসলামের প্রতি তার বিদ্বেষ। এছাড়া শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত নাসির উদ্দিন তুসী হালাকু খানের পরামর্শদাতা ছিলেন। এর ফলে আব্বাসীয় সাম্রাজ্যের পতনে সুন্নী ইসলাম যে মারাত্মক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় তা হতে পুনরুদ্ধার করা আর সম্ভবপর হয়নি। বলা বাহুল্য, আব্বাসীয় খিলাফতের পতনে সুন্নী মুসলিম সমাজ ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় প্রতীক হারিয়ে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। ঐতাহাসিক হিট্টি বলেন, “ইতিহাসে প্রথমবারের মত মুসলিম বিশ্ব খলিফা বিহীন হয়ে পড়ে যার নাম শুক্রবারের জুম’আর সালাতে খুতবায় উচ্চারিত হয়নি।”

    প্রফেসর ব্রাউন তার বিখ্যাত Literary History of Persia বইতে বাগদাদের পতন কাহিনীর এভাবে বর্ণনা দেন- “বাগদাদের লুণ্ঠন কাজ ১২৫৮ খৃষ্টাব্দের ১৩ই ফেব্রুয়ারী তারিখে আরম্ভ হয় এবং সপ্তাহকাল চলতে থাকে। এই সময়ের মধ্যে আট লক্ষ অধিবাসীকে হত্যা করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে যে বাগদাদ মহানগরী শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আব্বাসী খলীফাগণের বিশাল সাম্রাজ্যের কেন্দ্রস্থল ছিল তার সমুদয় ধনভান্ডার এবং সাহিত্যিক ও বৈজ্ঞানিক সম্পদ যা দীর্ঘকাল হতে সঞ্চিত হয়ে আসছিল সমস্তই লুণ্ঠিত ও বিধ্বস্ত করা হয়। তাতারীদের দ্বারা মুসলিম সংস্কৃতির যে মহা সর্বনাশ সাধিত হয়েছিল পরবর্তী যুগে তা কখনও পূরণ হতে পারেনি। এই ক্ষতির বিবরণ প্রদান করা অসম্ভব ও কল্পনাতীত। কেবল যে লক্ষ লক্ষ গ্রন্থরাজী সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হয়েছিল তা নয়, অগণিত বিদ্বজ্জন মন্ডলীর বিনাশ সাধন দ্বারা অথবা রিক্ত হস্তে শুধু প্রাণ নিয়ে তাদের পলায়ন করার দরুণ মৌলিক গবেষণার পদ্ধতি এবং সঠিক রেওয়ায়েত সমূহের সনদগুলি বিনষ্ট হয়ে যায়। পৃথিবীর ইতিহাসে এত বড় বিরাট ও মহান সভ্যতাকে এত দ্রুত আগুনে ভস্মীভূত ও রক্তসমুদ্রে নিমজ্জিত করার দৃষ্টান্ত পাওয়া যাবে না। তাতারী অভিযানের ফলে ইসলামী সাম্রাজ্যের অন্যান্য স্থানগুলি যথা সমরকন্দ, বুখারা, খোরাসান, আজারবাইজান, মসুল এবং ইউরোপের কতকাংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল।”

    জাতীয় জীবনের উল্লিখিত ভয়াবহ বিপর্যয় ও সংকটের মূল কারণ ছিল মুসলমানদের গৃহ বিবাদ এবং গৃহ বিবাদের অন্যতম কারণ ছিল মাযহাবী কোন্দল এবং তাকলীদ পরস্তদের গোঁড়ামী ও বিদ্বেষ।

    দুঃখের বিষয় এত বড় আঘাতের পরও মুসলমানগণ সমবেতভাবে চৈতন্য লাভ করতে পারে নাই এবং নিদারুণ পরিণতি স্বরূপ আজ তাতারী অভিযানের স্থানে নাস্তিকতা ও জড়বাদের যে সয়লাব সমগ্র ইসলাম জগতকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছে তার প্রতিকারের জন্য তারা কোরআন ও সুন্নাহ-র দিকে ফিরে আসতে প্রস্তুত হচ্ছে না।

    ঐতিহাসিক ইয়াফেয়ী (মৃ ৭৬৮ হিঃ) ইসলাম জগতের তৎকালীন দুরবস্থায় মর্মাহত হয়ে লিখেছিলেন, হায় দুরদৃষ্ট। ইসলাম কি ভয়াবহ বিপদে আক্রান্ত হয়েছে এবং হানাফী-শাফেয়ী ও অনুরূপ কলহ সমূহের কি হৃদয় বিদারক পরিণতি ঘটেছে। প্রত্যেকটি দল যে মাযহাবের অনুসরণ করে থাকে তার গোঁড়ামিতে অন্ধ হয়ে স্বীয় দলভুক্ত দুশ্চরিত্রদেরকে অকপট সমর্থন জ্ঞাপন করছে, আর অন্য মাযহাবের যারা প্রকৃত সাধুসজ্জন, তাদের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে লেগে গিয়েছে অথচ দুর্ভাগ্যবশতঃ এই দুস্কার্যকে তারা সত্যপরায়ণতা ও সত্যের সহায়তা বলে ধারণা করছে, কিন্তু আল্লাহ বলেছেন,
    “ওয়া’তাসিমু বিহাবলিল্লাহি জামিয়াও ওয়ালা তাফাররাকু।”
    ‘তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর রশিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরো এবং কখনো পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।’
    {সূরা আল-ই-ইমরান, আয়াত ১০৩}

    আল্লাহ আরও বলেছেন,
    “ইন্নাল্লাযীনা ফাররাকু দীনাহুম ওয়া কানু শিয়াআল্লাসতা মিনহুম ফি শাইয়িন।”
    ‘যারা নিজেদের দ্বীনকে টুকরো টুকরো করে নিজেরাই নানা দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে গেছে, তাদের কোনো দায়িত্বই তোমার ওপর নেই’
    {সূরা আল আনয়াম, আয়াত ১৫৯}

    মুসলমানদের মধ্যে মাযহাব নিয়ে আত্মকলহ মারাত্মক আকার ধারণ করলে বিবরুহ বাদশাহর আমলে মিশরে চারটি মাযহাব সরকারী স্বীকৃতি লাভ করে এবং চার মাযহাবের জন্য চারজন সরকারী কাজীও নিযুক্ত করা হয়। ৬৬৫ হিজরীতে সরকারীভাবে চার মাযহাব স্বীকৃতি লাভ করায় ইসলামী দুনিয়া হতে অন্য মাযহাবগুলি লোপ পেতে থাকে। চরম পরিণতি স্বরূপ ৮০১ হিজরীতে সুলতান ফরহ বিন বরকুক সরকেশী পবিত্র কাবা ঘরের চার পাশে চার মাযহাবের জন্য চারটি ভিন্ন ভিন্ন মুসল্লা নির্দিষ্ট করে দেন। তখন থেকে এক আল্লাহর দ্বীন এবং মুসলিম জাতির প্রতিষ্ঠাকেন্দ্র চার ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ল। অর্থাৎ সত্য ধর্মকে চারটি মাযহাবে বিভক্ত করে নবীর দ্বীনে বিপর্যয় ঘটান হল। এই ঘটনার সাড়ে পাঁচশত বৎসর পর সৌদী আরবের বাদশাহ আব্দুল আযীয আল সউদের রাজত্বকালে ১৩৪৩ হিজরীতে কাবার হেরেম হতে এ জঘন্য বিদ’আত উৎপাটিত হলেও পৃথিবীর প্রায় সব মুসলিম প্রধান দেশে এই মাযহাবগত বিভক্তি এখনও প্রকটভাবে বিদ্যমান।
    ভারত উপমহাদেশে অপসংস্কৃতিই মাযহাব উদ্ভবের কারণ
    ভারত উপমহাদেশের মুসলিমগণের মধ্যেও এই মাযহাবগত বিভক্তি প্রকটভাবে বিদ্যমান। বিভিন্ন যুগে মধ্য এশিয়া হতে সামরিক শক্তি দ্বারা এই উপমহাদেশ আক্রান্ত হয়েছে, তাদের দ্বারা বহু বৎসর এই দেশ শাসিত হয়েছে, পরবর্তী দুই শত বৎসর ধরে ইংরেজরা শাসন করেছে এবং বহু পীর, ফকির, আউলিয়া দরবেশ এদেশে ইসলামী দাওয়াত নিয়ে এসেছে। ফলে এদেশের আদি ধর্মানুরাগীগণ যারাই ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিল তারা তাদের পুরাতন ধর্ম বিশ্বাস, সংস্কৃতি, কৃষ্টি, দার্শনিক মতবাদ ইত্যাদি বিজাতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে ইসলামী আকীদাহ-র সংমিশ্রণে কোরআন ও হাদীসের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক হারিয়ে ফেলে বিভিন্ন নেতা ও পীরের অধীনে পৃথক মাযহাব-এ বিভক্ত হয়ে পড়ে। ইংরেজরা প্রায় ২০০ বৎসর এই উপমহাদেশ শাসনকালে মাদ্রাসা শিক্ষার পাঠ্যক্রম প্রণয়ন সহ বিভিন্ন মাসলা মাসায়েলের পুস্তক প্রণীত হয়। সেকেন্দার আলী ইব্রাহীমি কর্তৃক লিখিত এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত Reports on Islamic Education and Madrasah Education in Bengal গ্রন্থ হতে জানা যায় যে ভারতের মুসলিম সংখ্যা যখন এক তৃতীয়াংশে পৌঁছায় তখন মুসলিমরা মাদ্রাসা এডুকেশন নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দাবী জানালে তৎকালীন ভারতবর্ষের শাসনকর্তা লর্ড হেষ্টীংস ১৭৮০ সনে সানন্দে ঐ প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং মইজুদ্দিন নামে জনৈক ব্যক্তিকে তিনি নিজ পকেট হতে ৩০০ টাকা বেতনে ঐ মাদ্রাসার শিক্ষক নিযুক্ত করেন। (মোঃ নূরুল ইসলাম কর্তৃক প্রণীত পুস্তক 'আমরা কোন পথে!') ঐ সময় একজন প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড অফিসারের বেতন ছিল ১৫০ টাকা। লর্ড হেষ্টিংসের উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু মুসলিম দুই জাতিকে পৃথক করা। তাই তিনি এক ঢিলে দুই পাখি মারার পরিকল্পনা নেন এবং তাতে তিনি কৃতকার্যও হন। হিন্দু মুসলিম বিবাদ বাধিয়ে দেন এবং মুসলমানদের বিভ্রান্ত করে তাদেরকে প্রকৃত ইসলাম হতে অপসারণের চেষ্টা চালান। মুসলমানরা অজ্ঞতার কারণে এই মুইজুদ্দিন কে, কোথাকার লোক, কোন জাতীয় তারও কোন খোঁজখবর নেন নাই এবং কি উদ্দেশ্যে লর্ড সাহেব নিজ পকেটের টাকা খরচ করে মুসলমানদের বন্ধু সাজেন তাও চিন্তা করে দেখেন নাই। ১৭৮১ সাল হতে ১৮১৯ সাল পর্যন্ত ৩৮ বছর মাদ্রাসা পরিচালক দ্বারা এবং ১৮১৯ সাল হতে ১৮৫০ সাল পর্যন্ত ইংরেজ সেক্রেটারী ও মুসলমান সহকারী সেক্রেটারীর কর্তৃত্বাধীনে পরিচালক পরিষদ দ্বারা উক্ত মাদ্রাসা পরিচালিত হয়। ১৮৫০ সাল থেকে ঐ মাদ্রাসায় অধ্যক্ষের পদ সৃষ্টি হলে ১৯২৭ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ প্রথম ৭৭ বছর পর্যন্ত ১৭ জন ইংরেজ অফিসার উক্ত পদে বহাল ছিলেন। বিদেশী শাসনামলে সুকৌশলে বহু জাল হাদীসের সংমিশ্রণে উল্লেখিত পাঠ্যক্রম ও মাসলা মাসায়েলের পুস্তকাদি রচনা করে কোরআন ও হাদীসের সঠিক শিক্ষাকে কলুষিত করা হয়। ফলে উপমহাদেশের মুসলিমগণ সুন্নী, শিয়া, শাফেয়ী, কাদিয়ানী, মেমন, আহলে হাদীস ইত্যাদি বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে অখন্ড ইসলামকে খন্ড খন্ড করে ফেলে।

    বাংলাদেশে মাযহাব সম্বন্ধে ভ্রান্ত ধারণা
    বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ, এখানকার জনগোষ্ঠির প্রায় ৮৬% মুসলমান। এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান ধর্মভীরু সুন্নী, কিন্তু সঠিক ধর্মীয় শিক্ষাদীক্ষার অভাবে তারা প্রায়শঃই বিভিন্ন ধরণের শিরক, বিদ’আতকে ইসলামী শরিয়াহ-র অংশ হিসাবে গণ্য করে আসছে। এরা মাযহাব সম্বন্ধে খুবই সচেতন, এক মাযহাব অনুসারী অন্য মাযহাবীকে তাচ্ছিল্যভাবে দেখে।

    এদের বেশীর ভাগের ধারণা চারজন ইমামের অনুসরণীয় মাযহাব স্বীকার করা ফরজ, শরীয়তের উপর আমল করতে চার ইমামের একজনের পয়রবী করা ওয়াজিব, বিপরীত করলে অর্থাৎ যে কোন একটি মাযহাব না মানলে শরীয়ত হতে খারিজ হতে হবে, এক মাযহাব-এ থেকে অন্য মাযহাবের কোন অংশ অনুসরণ করা যাবে না, চারজনের মধ্যে আজীবন শুধু মাত্র একজনের অন্ধ অনুসরণ করতে হবে ইত্যাদি।

    এছাড়াও বিভিন্ন অপসংস্কৃতির সংমিশ্রনে এদেশে যে সব আচার-আচরণ, ধর্মীয় বিশ্বাস গড়ে উঠেছে সেগুলির বেশির ভাগই ভ্রান্ত এবং কুরআন ও সুন্নাহ নির্দেশিত সঠিক আচার আচরণ নয়। এই কারণেই বর্তমানে আমাদের দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের আদায়কৃত সালাত এবং রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদায়কৃত সালাতের তরীকার মধ্যে সচরাচর ভিন্নতা দৃশ্যমান হয়। তাই মাযহাব-এর শাব্দিক অর্থ কি, চার মাযহাব কখন সৃষ্টি হয়েছে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণের মাযহাব কি ছিল, চারজন ইমাম কোন মাযহাব মানতেন, চার মাযহাব মানা কি ফরয, মাযহাব ইসলামের কি ক্ষতি করছে ইত্যাদি বিভিন্ন প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানার মাধ্যমে মাযহাব সম্বন্ধে একটি স্বচ্ছ ধারণা থাকা ও কোরআন ও সুন্নাহ নির্দেশিত সঠিক দিকনির্দেশনা জেনে রাখা একান্ত অপরিহার্য।

    * সংকলন- মুহাম্মদ আবু হেনাভারত উপমহাদেশে অপসংস্কৃতিই মাযহাব উদ্ভবের কারণ
    ভারত উপমহাদেশের মুসলিমগণের মধ্যেও এই মাযহাবগত বিভক্তি প্রকটভাবে বিদ্যমান। বিভিন্ন যুগে মধ্য এশিয়া হতে সামরিক শক্তি দ্বারা এই উপমহাদেশ আক্রান্ত হয়েছে, তাদের দ্বারা বহু বৎসর এই দেশ শাসিত হয়েছে, পরবর্তী দুই শত বৎসর ধরে ইংরেজরা শাসন করেছে এবং বহু পীর, ফকির, আউলিয়া দরবেশ এদেশে ইসলামী দাওয়াত নিয়ে এসেছে। ফলে এদেশের আদি ধর্মানুরাগীগণ যারাই ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিল তারা তাদের পুরাতন ধর্ম বিশ্বাস, সংস্কৃতি, কৃষ্টি, দার্শনিক মতবাদ ইত্যাদি বিজাতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে ইসলামী আকীদাহ-র সংমিশ্রণে কোরআন ও হাদীসের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক হারিয়ে ফেলে বিভিন্ন নেতা ও পীরের অধীনে পৃথক মাযহাব-এ বিভক্ত হয়ে পড়ে। ইংরেজরা প্রায় ২০০ বৎসর এই উপমহাদেশ শাসনকালে মাদ্রাসা শিক্ষার পাঠ্যক্রম প্রণয়ন সহ বিভিন্ন মাসলা মাসায়েলের পুস্তক প্রণীত হয়। সেকেন্দার আলী ইব্রাহীমি কর্তৃক লিখিত এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত Reports on Islamic Education and Madrasah Education in Bengal গ্রন্থ হতে জানা যায় যে ভারতের মুসলিম সংখ্যা যখন এক তৃতীয়াংশে পৌঁছায় তখন মুসলিমরা মাদ্রাসা এডুকেশন নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দাবী জানালে তৎকালীন ভারতবর্ষের শাসনকর্তা লর্ড হেষ্টীংস ১৭৮০ সনে সানন্দে ঐ প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং মইজুদ্দিন নামে জনৈক ব্যক্তিকে তিনি নিজ পকেট হতে ৩০০ টাকা বেতনে ঐ মাদ্রাসার শিক্ষক নিযুক্ত করেন। (মোঃ নূরুল ইসলাম কর্তৃক প্রণীত পুস্তক 'আমরা কোন পথে!') ঐ সময় একজন প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড অফিসারের বেতন ছিল ১৫০ টাকা। লর্ড হেষ্টিংসের উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু মুসলিম দুই জাতিকে পৃথক করা। তাই তিনি এক ঢিলে দুই পাখি মারার পরিকল্পনা নেন এবং তাতে তিনি কৃতকার্যও হন। হিন্দু মুসলিম বিবাদ বাধিয়ে দেন এবং মুসলমানদের বিভ্রান্ত করে তাদেরকে প্রকৃত ইসলাম হতে অপসারণের চেষ্টা চালান। মুসলমানরা অজ্ঞতার কারণে এই মুইজুদ্দিন কে, কোথাকার লোক, কোন জাতীয় তারও কোন খোঁজখবর নেন নাই এবং কি উদ্দেশ্যে লর্ড সাহেব নিজ পকেটের টাকা খরচ করে মুসলমানদের বন্ধু সাজেন তাও চিন্তা করে দেখেন নাই। ১৭৮১ সাল হতে ১৮১৯ সাল পর্যন্ত ৩৮ বছর মাদ্রাসা পরিচালক দ্বারা এবং ১৮১৯ সাল হতে ১৮৫০ সাল পর্যন্ত ইংরেজ সেক্রেটারী ও মুসলমান সহকারী সেক্রেটারীর কর্তৃত্বাধীনে পরিচালক পরিষদ দ্বারা উক্ত মাদ্রাসা পরিচালিত হয়। ১৮৫০ সাল থেকে ঐ মাদ্রাসায় অধ্যক্ষের পদ সৃষ্টি হলে ১৯২৭ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ প্রথম ৭৭ বছর পর্যন্ত ১৭ জন ইংরেজ অফিসার উক্ত পদে বহাল ছিলেন। বিদেশী শাসনামলে সুকৌশলে বহু জাল হাদীসের সংমিশ্রণে উল্লেখিত পাঠ্যক্রম ও মাসলা মাসায়েলের পুস্তকাদি রচনা করে কোরআন ও হাদীসের সঠিক শিক্ষাকে কলুষিত করা হয়। ফলে উপমহাদেশের মুসলিমগণ সুন্নী, শিয়া, শাফেয়ী, কাদিয়ানী, মেমন, আহলে হাদীস ইত্যাদি বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে অখন্ড ইসলামকে খন্ড খন্ড করে ফেলে।

    বাংলাদেশে মাযহাব সম্বন্ধে ভ্রান্ত ধারণা
    বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ, এখানকার জনগোষ্ঠির প্রায় ৮৬% মুসলমান। এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান ধর্মভীরু সুন্নী, কিন্তু সঠিক ধর্মীয় শিক্ষাদীক্ষার অভাবে তারা প্রায়শঃই বিভিন্ন ধরণের শিরক, বিদ’আতকে ইসলামী শরিয়াহ-র অংশ হিসাবে গণ্য করে আসছে। এরা মাযহাব সম্বন্ধে খুবই সচেতন, এক মাযহাব অনুসারী অন্য মাযহাবীকে তাচ্ছিল্যভাবে দেখে।

    এদের বেশীর ভাগের ধারণা চারজন ইমামের অনুসরণীয় মাযহাব স্বীকার করা ফরজ, শরীয়তের উপর আমল করতে চার ইমামের একজনের পয়রবী করা ওয়াজিব, বিপরীত করলে অর্থাৎ যে কোন একটি মাযহাব না মানলে শরীয়ত হতে খারিজ হতে হবে, এক মাযহাব-এ থেকে অন্য মাযহাবের কোন অংশ অনুসরণ করা যাবে না, চারজনের মধ্যে আজীবন শুধু মাত্র একজনের অন্ধ অনুসরণ করতে হবে ইত্যাদি।

    এছাড়াও বিভিন্ন অপসংস্কৃতির সংমিশ্রনে এদেশে যে সব আচার-আচরণ, ধর্মীয় বিশ্বাস গড়ে উঠেছে সেগুলির বেশির ভাগই ভ্রান্ত এবং কুরআন ও সুন্নাহ নির্দেশিত সঠিক আচার আচরণ নয়। এই কারণেই বর্তমানে আমাদের দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের আদায়কৃত সালাত এবং রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদায়কৃত সালাতের তরীকার মধ্যে সচরাচর ভিন্নতা দৃশ্যমান হয়। তাই মাযহাব-এর শাব্দিক অর্থ কি, চার মাযহাব কখন সৃষ্টি হয়েছে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণের মাযহাব কি ছিল, চারজন ইমাম কোন মাযহাব মানতেন, চার মাযহাব মানা কি ফরয, মাযহাব ইসলামের কি ক্ষতি করছে ইত্যাদি বিভিন্ন প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানার মাধ্যমে মাযহাব সম্বন্ধে একটি স্বচ্ছ ধারণা থাকা ও কোরআন ও সুন্নাহ নির্দেশিত সঠিক দিকনির্দেশনা জেনে রাখা একান্ত অপরিহার্য।
    মাযহাব বলতে কি বুঝায়?
    মাযহাবের সঠিক অর্থ চলার পথ, কিন্তু মাযহাব অনুসারীগণ এর অর্থ করেন মত ও পথ। এই অর্থে দুনিয়ার যত মত ও পথ আছে সবই মাযহাব। ইমাম আবু হানিফার মত ও পথ হানাফী মাযহাব। অনুরূপ ইমাম মালেকের মত ও পথ মালেকী মাযহাব, ইমাম শাফেয়ীর মত ও পথ শাফেয়ী মাযহাব ও ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মত ও পথ হাম্বলী মাযহাব। তা হলে নবী মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মত ও পথ নিঃসন্দেহে মুহাম্মদী মাযহাব। আর সকলের মত ও পথের চেয়ে মুহাম্মদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মত ও পথ যে অতি উত্তম ও উত্কৃষ্ট মত ও পথ এ কথা কোন মুসলমানকে বলে দিতে হবে না। কাজেই অন্যান্য সকলের মত ও পথকে বর্জন করে মহানবীর মহাপবিত্র মত ও পথেই আমাদেরকে চলতে হবে। অন্য কারো মতে ও পথে চলার জন্য নির্দেশ নাই।

    যে সকল ইমামদের নামে মাযহাবের নামকরণ হয়েছে তাদের জন্মের আগে মাযহাব ছিল না, তাঁদের যামানায় মাযহাবের উদ্ভব হয় নাই। মাযহাব হয়েছে তাঁদের মৃত্যুর বহুদিন পরে। ইমাম আবু হানিফার জন্ম ৮০ হিজরীতে, মৃত্যু ১৫০ হিজরীতে; ইমাম মালেকের জন্ম ৯০ হিজরীতে, মৃত্যু ১৭৯ হিজরীতে; ইমাম শাফেয়ীর জন্ম ১৫০ হিজরীতে, মৃত্যু ২০৪ হিজরীতে; আর ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের জন্ম ১৬৪ হিজরীতে, মৃত্যু ২৪১ হিজরীতে। যেদিন ইমাম আবু হানিফার মৃত্যু হল সেই দিন ইমাম শাফেয়ীর জন্ম হয়েছে। এই দুই জনের পরস্পরের সঙ্গে কারো দেখা সাক্ষাত হয় নাই। মাযহাবের উদ্ভব হয়েছে ৪০০ হিজরীতে। ইমাম আবু হানিফার মৃত্যুর ২৫০ বত্সর পরে। এই চার ইমামের জন্মের পূর্বেও ইসলাম ছিল, মুসলিম ছিল। তখন যদি কারোর মত ও পথের প্রয়োজন না হয়ে থাকে তাহলে ৪০০ বত্সর পরে প্রয়োজন হবার বা ফরয হবার কোন যুক্তি থাকে না। তখনও মুসলিমদের কাছে কুরআন ও হাদীস ছিল, এখনও আছে, কাজেই কুরআন ও হাদীসই যথেষ্ট। সুতরাং নির্ভুল কুরআন হাদীসই মুসলিমদের মেনে চলতে হবে। চার মাযহাবের কোন একটিও মেনে চলার জন্য আল্লাহ ও রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ নাই।

    চার মাযহাব ফরয হবার কোন দলীল নেই
    আমাদের সমাজে প্রচার রয়েছে চার মাযহাবে চার ফরয। কিছু একটি ফরয হলে তা সমস্ত মুসলিম জাতির জন্যই ফরয হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে মাযহাব অনুসরণের কারণে মুসলিম জাতি বিভক্ত হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ যিনি হানাফী মাযহাবের অনুসরণ করেন, তিনি হাম্বলী, মালেকী ও শাফেয়ী মাযহাবের অনুসরণ করেন না। এমনিভাবে অন্য মাযহাবীরাও একে অন্যের মাযহাব মানেন না। তাদের কথা হল চার ফরয তথা চার মাযহাবের যে কোন একটি মানলেই হল। তাহলে তো পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের এক ওয়াক্ত মানলে বা পড়লেই হয়। চার মাযহাব ফরয করতে কোন নবীর আগমন ঘটেনি বরং অজ্ঞ জাহেল ব্যক্তিরাই মাযহাব ফরয দাবী করে মুরতাদ, কাফেরের পরিচয় দিয়েছে। যাদের নামে মাযহাব মানা হচ্ছে তাঁরা কি আদৌ এ মাযহাব তৈরী করেছেন? প্রকৃত ঘটনা হল এই যে, ইমামগণ প্রচলিত মাযহাব তৈরী করেন নি বা কাউকে তৈরী করতেও বলেননি এবং তাদের উপর চার মাযহাব ফরযও হয়নি। বরং চারশত হিজরীর পর, অতিভক্তির পরিণতির কারণে এই চার মাযহাবের উদ্ভব হয়।

    যদি ধরেও নেয়া হয় যে ইমামগণ চার মাযহাব তৈরী করেছেন, কিন্তু তা ফরয হল কি ভাবে? তাঁরাতো নবী ছিলেন না। তাদের নিকট ওহীও আসত না। এগুলি তাঁদের নামে মিথ্যা অপবাদ ব্যতীত আর কিছুই না। তাঁদের সময় এবং তাঁদের পূর্বে একটি মাযহাবই ছিল। তাঁরা ঐ একটি মাযহাবকেই মানতেন এবং অন্যকে মানতে বলতেন। ঐ একটি মাযহাবই ফরয যা নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপর অবতীর্ণ করা হয়েছে।

    হাদীসকে আঁকড়ে ধরার প্রতি ইমামগণের উপদেশ
    চার ইমামকে (রহঃ) আমাদের তরফ হতে আল্লাহ উত্তম বদলা দান করুন। তাঁরা প্রত্যেকেই তাদের নিকট যে হাদীস সমূহ পৌঁছেছিল সে অনুযায়ী ইজতেহাদ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে যে মতানৈক্য হয়েছিল তার বিশেষ কারণ হল এই যে, কারো নিকট কতক হাদীস পৌঁছেছিল যা অন্যের নিকট পৌঁছেনি, কারণ তদানীন্তন যুগে হাদীস সংকলিত হয় নি। আর হাদীসের হাফেযগণ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলেন, কেউ ছিলেন হিজাযে (মক্কা ও মদীনায়), আর কেউ ছিলেন শ্যামে (সিরিয়ায়), কেউ বা ইরাকে, আবার কেউ মিসরে অথবা অন্যান্য ইসলামী দেশে। সে যুগে এক স্থান হতে অন্য স্থানের যোগাযোগ ছিল অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টকর। কাজেই আমরা দেখতে পাই যে, ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) যখন ইরাক ছেড়ে মিসরে গেলেন তখন তিনি ইরাকের পুরাতন মাযহাব ত্যাগ করলেন। কেননা ততক্ষণে তাঁর সামনে বহু নুতন নুতন সহীহ হাদীস উপস্থাপিত হয়েছিল।

    ইমামগণের মধ্যে মতানৈক্যের একটি উদাহরণ উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ইমাম শাফেয়ীর (রহঃ) মতে কোন মহিলাকে স্পর্শ করলে ওযু নষ্ট হয়ে যায়। অপরদিকে ইমাম আবু হানিফার (রহঃ) মতে ওযু নষ্ট হয় না। দুই ইমামের মতামতের এই বৈষম্যতার কারণে আমাদের অপরিহার্য কর্তব্য হল, কুরআন ও সহীহ হাদীসের দিকে প্রত্যাবর্তন করা। কারণ মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ
    "ফায়িন তানাযা'তুম ফি শাইয়িন ফারুদ্দুহু ইলাল্লাহি ওয়ার রাসূলী ইন কুনতুম তু'মিনুনা বিল্লাহী ওয়াল ইয়াওমিল আ'খীরী, যালিকা খাইরুওওয়া। আহসানু তা'বীলান।"
    "অতঃপর কোনো ব্যাপারে তোমরা যদি একে অপরের সাথে মতবিরোধ করো, তাহলে সে বিষয়টি (ফয়সালার জন্যে) আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাও, যদি তোমরা (সত্যিকার অর্থে) আল্লাহর ওপর এবং শেষ বিচার দিনের ওপর ঈমান এনে থাকো! (তাহলে) এই পদ্ধতিই হবে (তোমাদের বিরোধ মিমাংসার) সর্বোত্কৃষ্ট উপায় এবং বিরোধপূর্ণ বিষয়সমূহের ব্যাখ্যার দিক থেকেও (এটি) হচ্ছে উত্তম পন্থা।
    {সূরা আন্ নিসা, আয়াত ৫৯}

    আর আমরাতো কেবল আল্লাহর নিকট হতে অবতারিত কুরআনের অনুসরণ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি। আর রাসূল (সঃ) সহীহ হাদীসের মাধ্যমে তার ব্যাখ্যা দান করেছেন। তাই এরশাদ হচ্ছেঃ
    "ইত্তাবিয়ু মা উনযিলা ইলাইকুম মির রাব্বিকুম ওয়ালা তাত্তাবিয়ূ মিন দুনুহি আউলিয়াআ কালিলাম্‌মা তাযাক্কারুন।"
    "(হে মানুষ, এ কিতাবে) তোমাদের মালিকের কাছ থেকে তোমাদের কাছে যা কিছু পাঠানো হয়েছে তোমরা তার (যথাযথ) অনুসরণ করো এবং তা বাদ দিয়ে তোমরা অন্য কোনো অলি আউলিয়ার পৃষ্ঠপোষকদের অনুসরণ করো না; (আসলে) তোমরা খুব কমই উপদেশ মেনে চলো।"
    {সূরা আল আ’রাফ, আয়াত ৩}

    সত্য কোন সময় একাধিক হতে পারে না। প্রকৃত সত্য হল, ওযু ভঙ্গের কারণগুলির মধ্যে কোন মহিলাকে স্পর্শ করা অন্তর্ভুক্ত নয় বিধায় কোন মহিলার শরীর স্পর্শ করলে ওযু ভঙ্গ হবে না।

    সুতরাং কোন মুসলিমের সামনে কোন সহীহ হাদীস উপস্থাপিত হলে তাকে একথা বলা জায়েয নয় যে, এটা আমাদের মাযহাব বিরোধী। কারণ সমস্ত ইমামের ইজমা (ঐকমত্য) হচ্ছে যে সহীহ হাদীস গ্রহণ করবে এবং ঐ সমস্ত মতবাদ পরিহার করবে যা সহীহ হাদীসের পরিপন্থী।


    হাদীস সম্পর্কে ইমামগণের অভিমত
    নীচে ইমাম (রহঃ) গণের কতিপয় উক্তি তুলে ধরা হচ্ছে। তাদেরকে কেন্দ্র করে যেসব দোষারোপ করা হয় তাঁদের এই উক্তির মাধ্যমেই তা দূরীভূত হবে এবং তাদের অনুসারীদের নিকট ন্যায় ও সত্য স্পষ্ট রূপে উদঘাটিত হবে।

    প্রত্যেক ব্যক্তিই যার ফিকহের নিকট ঋণী সেই ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) বলেনঃ
    (১) কোন ব্যক্তির জন্য আমাদের কোন কথাকে গ্রহণ করা হালাল হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত সে জ্ঞাত না হবে যে, তা আমরা কোথা থেকে প্রাপ্ত হয়েছি।

    (২) আমার দলীল না জেনে, শুধু কথার উপর ভিত্তি করে ফতোয়া দেয়া হারাম। কারণ আমরা মানুষ, আজ এক কথা বলি, আগামীকাল আবার ওটা হতে প্রত্যাবর্তন করি।

    (৩) যদি আমি এমন কোন কথা বলি, যা আল্লাহর কিতাব কিংবা রাসূল (সঃ) এর হাদীসের পরিপন্থী হয়, তাহলে আমার কথাকে পরিহার করবে।

    (৪) যদি কোন হাদীস সহীহ প্রমাণিত হয় তাহলে ওটা মাযহাবের প্রতিকূলে হলেও ঐ হাদীসেরই উপর আমল করতে হবে, আর সেটাই হবে আমার মাযহাব। কোন মুকাল্লিদ (অন্ধানুসারী) সেই হাদীসের উপর আমলের দরুন হানাফী মাযহাব থেকে বের হয়ে যাবেনা।

    (৫) যদি হাদীস সহীহ প্রকট হয়, তবে ওটাই আমার মাযহাব।

    গ্রন্থসূত্রঃ আল-হাশিয়া, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৬৬ / রসমুল মুফতী, পৃ ৪ / শরহে হেদায়া / আল এনতেকা ফী ফাসায়েলিস সালাসাতিল আয়েম্মাতিল ফোকাহা, পৃ ১৪৫ / এলামুল মোআক্কেঈন, ২য় খন্ড, পৃ. ৩০৯ / আলবাহারোর রায়েক, ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃ. ২৯৩, রসমুল মুফতী, পৃ. ৭৭ / আলঈকায, পৃ. ৫০

    ইমাম মালেক (রহঃ) যিনি মদীনাবাসীদের ইমাম বলে সুবিদিত ছিলেন, তিনি বলেনঃ
    (১) আমিতো একজন মানুষ মাত্র, ভুলও বলি, সঠিকও বলি। তাই আমার অভিমতকে ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করে তার মধ্যে যেগুলো কুরআন ও হাদীসের অনুকূলে হয় তা গ্রহণ কর, আর যে গুলো কুরআন ও হাদীসের প্রতিকূলে হয়, তাকে পরিহার কর।

    (২) রাসূল (সঃ) এর পরে কোন ব্যক্তি নেই যার সব কথা গ্রহণীয়, বর্জনীয় নয় বরং কিছু কথা গ্রহণীয় হতে পারে আবার বর্জনীয় হতে পারে। একমাত্র রাসূলের (সঃ) কথার সবগুলোই গ্রহণীয়, কোন কিছুই অগ্রহণীয় নয়।

    গ্রন্থসূত্রঃ আলজামেউ ফী বয়ানিল এলম, ১ম খন্ড, পৃ. ২২৭, ২য় খন্ড, পৃ. ৩২ / উসূলুল আহকাম, ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃ. ১৪৫-১৭৯ / আলঈকায, পৃ. ৭২ / এরশাদুল সালেক, ১ম খন্ড, পৃ. ২২৫ / তকীউদ্দীন সুবকী (র.) এর ফতোয়া গ্রন্থের ১ম খন্ড, পৃ. ১৪৮

    ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) যিনি আহলে-বাইতের (নবীর বংশধরের) একজন, তিনি বলেনঃ
    (১) এমন কেউ নেই যার নিকট রাসূলের (সঃ) সমস্ত হাদীস পৌঁছেছে বরং কিছু হাদীস পৌঁছেছে আর কিছু তাঁর অজ্ঞাত রয়ে গেছে, তাই আমি যত কথাই বলিনা কেন, আর যতই কায়দা প্রণয়ন করিনা কেন, যদি রাসূল (সঃ) হতে তার প্রতিকূলে কোন কথা থাকে তবে রাসূল (সঃ) এর কথাই গ্রহণযোগ্য আর সেটাই আমার উক্তি বা মত।

    (২) মুসলমানদের ইজমা (ঐকমত্য) এই যে, যদি কোন ব্যক্তির নিকট রাসূল (সঃ) এর কোন সুন্নাত স্পষ্টভাবে প্রকট হয় তবে তাঁর কথা ছাড়া অন্য কারো কথা গ্রহণ করা জায়েয হবে না।

    (৩) যদি আমার কোন কিতাবে রাসূল (সঃ) এর হাদীসের বিপরীত কোন কথা পাও, তবে রাসূল (সঃ) এর কথাকেই গ্রহণ করবে সেটাই আমার মত।

    (৪) যদি কোন হাদীস সহীহ হয় তাহলে সেটাই আমার মাযহাব।

    (৫) ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রঃ) কে সম্বোধন করে উক্তিঃ তোমরা আমার অপেক্ষ‍া হাদীস ও তার বর্ণনাকারীদের বিষয়ে অধিক জ্ঞাত আছ। অতএব যদি কোন হাদীস সহীহ সূত্রে পাও তাহলে আমাকে সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দেবে যেন আমি তা অবলম্বন করতে পারি।

    (৬) যে সমস্ত মাসআলা আমি বলেছি তার প্রতিকূলে যদি হাদীস বিশারদদের নিকট সহীহ হাদীস প্রমাণিত হয়, তাহলে আমার বলা মাসআলা থেকে আমি আমার জীবদ্দশাতে ও মৃত্যুর পর প্রত্যাবর্তন করছি।

    গ্রন্থসূত্রঃ তারীখে দেমাশক / আলঈকায, পৃ. ৫৮, ১০০, ১০৪, ১০৭, ১৫২ / এলামুল মোআক্কেঈন, ২য় খন্ড, পৃ. ৩০২, ৩২৫, ৩৬১, ৩৬৩-৩৬৪, ৩৭০ / যম্মুল কালাম, ৩য় খন্ড, পৃ. ১, ৪৫ / আল এহতেজাজ বিশশাফেয়ী, ৮ম খন্ড, পৃ. ২ / ইবনে আসাকের তারীখ গ্রন্থের ১৫তম খন্ড, পৃ. ৯, ৯২ / আলমাজমূ, ১ম খন্ড, পৃ. ৬৩ / আলহেলইয়াতুল আওলিয়া, ৯ম খন্ড, পৃ. ১০৫, ১০৭, ৬০৬ / আলমীযান, ১ম খন্ড, পৃ. ৫৭ / ইবনে আবী হাতেম এর আল আদাবুশ শাফেয়ী গ্রন্থের পৃ. ৯৩-৯৫ / আলএনতেকা, পৃ. ৭৫ / মানরাবেকুল ইমাম আহমদ, পৃ. ৪৯৯ / আলহেরাবী, পৃ. ৪৭ / আল আমালী / আলমোন্তাকা, ১ম খন্ড, পৃ. ২৩৪

    ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ) যাঁকে আহলে সুন্নাতদের ইমাম বলা হয়, তিনি বলেনঃ
    (১) আমার তকলীদ (অন্ধ অনুসরণ) করো না, আর না মালেকের (রহঃ), বা শাফেয়ী (রহঃ) বা আওযায়ী (রহঃ) অথবা সাওয়ারীর (রহঃ) বরং তাঁরা যেখান হতে গ্রহণ করেছেন সেখান হতে গ্রহণ কর (কুরআন ও হাদীস হতে)।

    (২) যে ব্যক্তি রাসূল (সঃ) এর কোন হাদীসকে প্রত্যাখ্যান করবে সে তো ধ্বংসের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে।
    কুরআন ও হাদীস অনুসারে মুসলিমদের মাযহাব একটাই
    মুসলিম জাতির মত বা পথ একটিই। সেটা হল সহজ সরল সোজা পথ। যে পথ সম্পর্কে বলতে যেয়ে একদিন রাসূল (সঃ) একটা সরল রেখা আঁকলেন এবং তার ডান দিকে দুটি এবং বাম দিকে দুটি রেখা আঁকলেন। অতঃপর তিনি তাঁর হাতকে মধ্য রেখায় রেখে বললেনঃ "এটাই আমার পথ। এটাই আমার সোজা পথ, তোমরা এই পথেরই অনুসরণ কর এবং অন্য পথ সমূহের অনুসরণ করো না। যদি কর তবে তা আল্লাহর সোজা পথ হতে তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করে দিবে।" {ইব্‌ন মাজাহ/১১}

    মুসলিম জাতির মাযহাব একটিই তা হলো ইসলাম / যারা একমাত্র মাযহাব ইসলামকে ভেঙ্গে চৌচির করেছে তারা ধৃষ্টতার পরিচয়ই দিয়েছে। কারণ তাদের আল্লাহর রাসূলের (সঃ) সাথে কোন সম্পর্ক নেই। তাদের দায় দায়িত্ব আল্লাহর নিকট। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
    "ইন্নাল্লাযীনা ফাররাকু দিনাহুম ওয়াকানু শিয়ায়াল্লাসতা মিনহুম ফি শাইয়িন, ইন্নামা আমরুহুম ইলাল্লাহি ছুম্মা ইউনাব্বিউহুম বিমা কানু ইয়াফআলুন।"
    "যারা নিজেদের দ্বীনকে টুকরো টুকরো করে নিজেরাই নানা দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে গেছে, তাদের কোনো দায়িত্বই তোমার ওপর নেই; তাদের (ফয়সালার) ব্যাপারটা আল্লাহ তায়ালার হাতে, (যেদিন তারা তাঁর কাছে ফিরে যাবে) তখন তিনি তাদের বিস্তারিত বলবেন, তারা কে কি করছিলো।"
    {সূরা আল আনয়াম, আয়াত ১৫৯}

    আল্লাহ তায়ালা আরো বলেনঃ
    "ওয়া মাইয়্যাবতাগি গাইরাল ইসলামি দিনান ফালাইয়্যুকবালা মিনহু ওয়াহুয়া ফিল আখিরাতি মিনাল খাছিরিন।"
    "যদি কেউ ইসলাম ছাড়া (নিজের জন্যে) অন্য কোনো জীবন বিধান অনুসন্ধান করে তবে তার কাছ থেকে সে (উদ্ভাবিত) ব্যবস্থা কখনো গ্রহণ করা হবে না, পরকালে সে চরম ব্যর্থ হবে।"
    {সূরা আল-ই-ইমরান, আয়াত ৮৫}

    আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সঃ) মানুষের কল্যাণে ইসলামের বিধি-বিধান (ইসলামী শরীয়ত) জারি করেছেন। আল্লাহ তায়ালা এই শরীয়তের পূর্ণতার ঘোষণা করে বলেনঃ
    "আলইয়াওমা আকলামতু লাকুম দীনাকুম ওয়া আতমামতু আলাইকুম নি'মাতি ওয়া রাদীতু লাকুমুল ইসলামা দীনান।"
    "আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীন পূর্ণ করে দিলাম, আর তোমাদের ওপর আমার (প্রতিশ্রুত) নেয়ামতও আমি পূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের জন্যে জীবন বিধান হিসাবে আমি ইসলামকেই মনোনীত করলাম"
    {সূরা আল মায়িদা, আয়াত ৩}

    ইন্তেকালের পূর্বে ঐতিহাসিক বিদায় হজ্জ্বের ভাষণে রাসূল (সঃ) তাঁর সাহাবাগণকে তথা সমগ্র জগতকে সম্বোধন করে বলে গিয়েছেন, "আমি তোমাদের নিকট দুটি মহান বস্তু রেখে গেলাম। যতদিন তোমরা ঐ দুটিকে মজবুত করে ধরে থাকবে ততদিন গুমরাহ হবে না আর তা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাত।"

    মুসলিমদের অবশ্য অনুসরণীয় পথ
    শরীয়তের বিধি-বিধান অখন্ড। এর কিছু অংশ গ্রহণ এবং কিছু অংশ বর্জন করা নিষেধ। শরীয়তের প্রতিটি হুকুমের উপর ঈমান আনা এবং সামগ্রিকভাবে শরীয়াত পালন করা অবশ্য কর্তব্য। শরীয়তের কোন বিধানের বিরোধিতা বা লংঘন একই সঙ্গে ইহকালীন এবং পরকালীন দুটি মারাত্মক পরিণতির কারণ। এই প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
    "ইন্নামা জাযাউল্লাযিনা ইউহরিবুনাল্লাহা ওয়া রাসূলাহু ওয়া ইয়াছআউনা ফিল আরদি ফাসাদান আইয়্যুকাত্তালু আও ইউসাল্লাবু আও তুকাত্তায়া আইদিহিম ওয়া আরযুলুহুম মিন খিলাফিন আউ য়ুনফাউ মিনাল আরদি, যা'লিকা লাহুম খিজয়ুন ফিদ্দুনইয়া ওয়ালাহুম ফিল আখিরাতি আযাবুন আজীম।"
    "যারা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং (আল্লাহর) যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টির অপচেষ্টা করে, তাদের জন্যে নির্দিষ্ট শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদের হত্যা করা হবে কিংবা তাদের শুলবিদ্ধ করা হবে, অথবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত-পা কেটে ফেলা হবে, কিংবা দেশ থেকে তাদের নির্বাসিত করা হবে; এই অপমানজনক শাস্তি তাদের দুনিয়ার জীবনের জন্যে, (তাছাড়া) পরকালে তাদের জন্যে ভয়াবহ আযাব তো রয়েছেই।"
    {সূরা আল মায়িদা, আয়াত ৩৩}

    আল্লাহ তায়ালা কুরআনে আরও উল্লেখ করেছেন,
    "ক্বুল ইন কুনতুম তুহিব্বুনাল্লাহ ফাত্তবিয়ুনী ইউহবিবকুমুল্লাহু ওয়া ইয়াগফিরলাকুম যুনুবাকুম, ওয়াল্লাহু গাফুরুর রাহীম।"
    "(হে নবী,) তুমি বলো, তোমরা যদি আল্লাহ তায়ালাকে ভালোবাসো, তাহলে আমার কথা মেনে চলো, (আমাকে ভালোবাসলে) আল্লাহ তায়ালাও তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তিনি তোমাদের গুনাহখাতা মাফ করে দেবেন; আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়াবান।"
    {সূরা আল-ই-ইমরান, আয়াত ৩১}

    এই পবিত্র আয়াতটি মীমাংসা করে দিয়েছে যে, যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভালবাসার দাবী করে, কিন্তু তার আমল ও বিশ্বাস যদি রাসূল (সাঃ)-এর নির্দেশের অনুরূপ না হয় এবং সে তার সুন্নাতের অনুসারী না হয়, তবে সে তার এ দাবীতে মিথ্যাবাদী। সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, রাসূল (সঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন এমন কাজ করে যার উপর আমার নির্দেশ নেই, তা অগ্রাহ্য।

    আল্লাহর রাসূলের (সঃ) পর চারশত বছর পর্যন্ত রাসূল (সঃ)-এর মাযহাব ছাড়া অন্য কোন মাযহাবের অস্তিত্ব ছিল না। অতএব, তাঁর নির্দেশানুসারে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর সুন্নাতকে মজবুত করে ধরে থাকাই গুমরাহী হতে বাঁচার একমাত্র উপায়।

    মাযহাবের ভয়াবহতা সম্বন্ধে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা
    এই একবিংশতিতম শতাব্দীর প্রারম্ভে বর্তমান দুনিয়ার প্রায় ১৪০ কোটি মুসলমানই সর্বত্র কমবেশী নিগৃহীত হচ্ছে এ জন্য যে, মুসলমানরা বিভিন্ন মাযহাব, ফিরকাহ ও ঘরানায় বিভক্ত এবং সাধারণ (Common) শত্রুর বদলে পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে দ্বন্দ্বেই অধিকতর লিপ্ত। এই বাস্তবতার প্রেক্ষিতে মাযহাব, ফিরকাহ, ঘরানা নির্বিশেষে গোটা মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এখনই গড়ে না তুললে সামাজ্যবাদী-ইহুদীবাদী ও উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামরিক আগ্রাসন থেকে আত্মরক্ষা করা কোনক্রমেই সম্ভবপর হবে না।

    ~~~ সমাপ্ত ~~~
    * সংকলন- মুহাম্মদ আবু হেনা

    এপ্রিল ফুল - একটি অসাধু ঐতিহ্য


    ১লা এপ্রিল- এমন একটি দিন যেদিন অনেক মানুষই বিনোদনের নামে মিথ্যা বলে, হাসি-ঠাট্টা করে আর অপরের সঙ্গে ব্যঙ্গ-তামাশা করে। জানা যায় যে, মিথ্যা বলার এ কুৎসিত অনুকরণটি, যাকে অনেকেই শুধুমাত্র সামান্য রসিকতা বলে বিবেচনা করেন, একদা প্রচুর মানুষের জীবনের বিশাল ক্ষতি সাধন করেছিলো। তবুও এই অসাধু ঐতিহ্য শুধুমাত্র যে কিছুসংখ্যক লোকজন দ্বারা পালিত হয় তা নয়, বরং আজকাল ১লা এপ্রিলে কিছু পত্রিকা ও ম্যাগাজিন মিথ্যা সংবাদ ও অসত্য গল্প প্রকাশ করার মাধ্যমে এতে অংশ নিয়ে থাকে।


    অনেকেই এর উদ্ভব সম্পর্কে অনেক তথ্য বলেন, আমরা সেসবে যাচ্ছিনা, আমাদের মুসলিমদের জন্যে যে বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো এই ঐতিহ্যটি ইসলামিক শিক্ষা ও নৈতিকতার সরাসরি বিরুদ্ধাচারণ।

    কেননা মিথ্যাচার কপটতার (মুনাফেকী) একটি খাস বৈশিষ্ট্য এবং আল্লাহর রসূল (স.) যে কোন কারণেই হোক মিথ্যা বলাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন। তিনি (স.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং শেষ দিবসের ওপর বিশ্বাস রাখে সে যেন হয় ভালো কথা বলে নচেৎ চুপ থাকে।" {সহীহ বুখারী}

    অধিকন্তু, তিনি (স.) বিশেষ করে তাদের লানত করেছেন যারা নিছক লোক হাসাবার জন্যে মিথ্যাচার করে। তিনি (স.) বলেছেন, "দুর্ভাগ্য তাদের ওপর যারা অপরকে হাসাবার জন্যে মিথ্যা কথা বলে, দূর্ভাগ্য তাদের ওপর।" {আবূ দাঊদ}

    উপরের হাদীসটি আমাদের এপ্রিল ফুল নামক মিথ্যা প্রথায় অংশগ্রহণের গভীর পরিণতি সম্পর্কে জানিয়ে দিচ্ছে, যাকে পশ্চিমা সংস্কৃতি একাধারে মূল্যায়ণ ও উৎসাহিত করে এই দাবীতে যে, এটা আনন্দ ও মজা এনে দেয়। কিন্তু মুসলিম মাত্রই মনে রাখতে হবে যে, মিথ্যা বলা এবং প্রতারিত করাকে নবী (স.) নিষিদ্ধ করেছেন যদিও তা এ নিয়তে হয় যে তা মানুষকে মজা দেবে।

    আব্‌দ আল-রহমান ইবনে আবি লায়েলা বলেন,
    রসূল (স.)এর সাহাবীগণ আমাদের বলেছেন যে, তারা রসূল (স.)-এর সঙ্গে ভ্রমনে ছিলেন। তাদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি ঘুমিয়ে পড়েন আর তাদের কয়েকজন গিয়ে ঐ (ঘুমন্ত ব্যক্তির) তীরগুলো নিয়ে নেন। যখন সে জেগে উঠল, সে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে গেলো (তার তীরগুলো হারিয়ে যাবার কারণে) এবং মানুষেরা হাসতে লাগলো। নবী (স.) বললেন, "তোমরা কি নিয়ে হাসছো?" তারা বললেন, "তেমন কিছু না, আমরা কেবল তার তীরগুলো নিয়েছিলাম আর সে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে গেছে।" রসূল (স.) বললেন, "একজন মুসলিমের জন্য অপর মুসলিমকে ভয় দেখানো নিষিদ্ধ" {আবূ দাঊদ (৫০০৪) ও মুসনাদ আহমদ} [শেখ আলবানি তার সহীহ আল-জামীতে (৭৬৫৮) একে সহীহ বলেছেন]

    রসূল (স.) মিথ্যাবাদীর জন্য কঠোর শাস্তির বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, "আমি দেখলাম (স্বপ্নে) যে, দুজন মানুষ আমার কাছে এলো।" এরপর নবী (স.) তার স্বপ্নের বর্ণনা দিলেন। "তারা বললো, 'সে লোকটি, যার গাল চিড়ে ফেলা হচ্ছে দেখলেন (তার মুখ থেকে কান পর্যন্ত), সে একজন মিথ্যাবাদী ছিলো, সে মিথ্যা কথা বলতো আর মানুষ তার সূত্রে সে মিথ্যাকে দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিতো। সুতরাং সে কেয়ামত দিবস পর্যন্ত এভাবেই শাস্তি পেতে থাকবে।'" {সহীহ আল-বুখারী, ভলিউম ৮, হা/১১৮}

    আল্লাহ তায়ালা আমাদের এসব অসদাচরণকে প্রশ্রয় দেয়া থেকে রক্ষা করুন ও তাদের এসব অনুকরণ থেকে বেঁচে থাকবার তৌফিক দান করুন যারা আমাদের মুসলিম সমাজকে এর দ্বারা দূষিত করতে চায়।

    হে আমার ভাই/বোনেরা, প্রবঞ্চনামূলক এ ঐতিহ্য এড়িয়ে চলুন, নিজেদের গুনাহে লিপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করুন।

    আমীন!!

    * ভাই আদিল ইবনে মঞ্জুর খান (ভারত থেকে)-এর পাঠানো ইমেইল থেকে অনুবাদ করেছেন মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী।
    ** এ লেখাটি যে কেউ কোনো পূর্বানুমতি ছাড়াই তাদের ব্যক্তিগত বা গ্রুপ সাইটে বা ইন্টারনেটের যে কোনো জায়গায় প্রচার করতে পারবেন এবং যে কোন অলাভজনক প্রকাশনায় প্রকাশ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে লেখকের নাম/লিংক প্রকাশ করা কোনো শর্ত নয়। মহান আল্লাহ তায়ালা জানেন আমরা কে কি করছি।



    লিখেছেনঃ মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী



    Saturday, 9 April 2011

    অলি আউলিয়ার ব্যাপারে মানুষের ভূল আকিদাহ এবং কোরআনের আলোকে অলি আউলিয়ার প্রকারভেদ

    (পীর অলি পুজারী সকল মুসলমান নামধারীদের ধর্মব্যবসায়ীদের জন্য)

    আসসালামু আলাইকুম,
    সকলের উপর আল্লাহর শান্তি রহমত বরকত বর্ষিত হোক। শান্তি বর্ষিত হোক সেই ব্যক্তির উপর যে হেদায়েতের অনুসরণ করে কাফেরদের মধ্য থেকে, মুশরিকদের মধ্যথেকে, মুনাফিকদের মধ্যথেকে এবং নাস্তিকদের মধ্যথেকে।

    আল্লাহ বলেছেন,
    সূরা আল ইমরান-৬৪এসো সেই কথায় যা তোমাদের ও আমাদের মধ্যে এক
    ১। আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত করি না।
    অর্থ্যাৎ আল্লাহর আইনকানুন মানাও যেমন আল্লাহর ইবাদত তেমনি আল্লাহর কোরআনের আইনের উপস্থিতিতেও মানুষের রচিত আইন মানা মানুষের ইবাদত। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।


    ২। তার সাথে কোন কিছু শরীক করি না।
    অর্থ্যাৎ তার আদেশ সবার উপরে। তার আদেশের বা কোন আইন কানুন বিধিবিধান এর সাথে মানবরচিত আইন কানুন বা বিধি বিধানকে শরীক করিনা।

    ৩। আমাদের মধ্যে কাউকে আল্লাহ ছাড়া রব (আদেশদাতা বিধানদাতা ইলাহ হিসাবে) মানি না।

    যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে বলে দাও, তোমরা স্বাক্ষী থাক আমরা মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী আল্লাহর কাছে হোক সেটা নিজের ইচ্ছার পক্ষে হোক বা বিপক্ষে)।
    =============================================
    অনেক মানুষ মনে করে অলি আউলিয়া, পীরগণ মৃতু্ বরণ করে না।
    সূরা আল ইমরান-১৮৫> প্রত্যেক প্রাণীই মৃতু্র স্বাদ ভোগ করবে।

    অনেকে বলে অলি আউলিয়া গণ
    মরার পরেও মানুষের কথা শুনে যখন মানুষ কবরের সামনে গিয়ে তাদের পুজা করে বা তাদের কাছে কিছু চায়।
    ---------------------------------------------------------------------------------
    আল্লাহ বলেন-
    সূরা নমল-৮০> হে নবী আপনি মৃতুদের কথা শোনাতে সক্ষম নন।
    ---------------------------------------------------------------------------------
    অনেকে বলেন অলি আউলিয়াগণ মৃতু্র পর কথা না শুনলেও কবরে শোয়ানোর পর কথা শুনেন।

    আল্লাহ বলেন-
    সূরা ফাতির -২২> হে নবী আপনি "কবরে" শোয়া ব্যক্তিকে শুনাতে সক্ষম নন।
    ---------------------------------------------------------------------------------
    অনেকে বলে কবরবাসী অলি আউলিয়া সাহায্য করার ক্ষমতা রাখে।
    কবরবাসী সম্পর্কে আল্লাহ বলেন-
    সূরা নাহল-২১ > তারা মৃত, প্রাণহীন। কবে পুনরুত্থিত হবে জানে না।
    ---------------------------------------------------------------------------------
    এই আকিদাহ বা বিশ্বাসগুলো আসে ফাজায়েলে আমল এবং কিছু রাস্তার পাশের গল্পের বই থেকে যেগুলোর সাথে কোরআন ও সহীহ হাদিসের কোন সম্পর্ক নেই।
    ---------------------------------------------------------------------------------

    মানুষের মধ্যে একটা ধারণা আছে অলি আউলিয়ার ব্যাপারে।

    অলি এক বচন বহুবচন আউলিয়া।

    আউলিয়া মানে পরামর্শদাতা, রক্ষাকারী, সাহায্যকারী, দিকনির্দেশনাদানকারী ইত্যাদি।
    ---------------------------------------------------------------------------------
    => সূরা আরাফ এর ৩ নং আয়াতে বলা হইছে

    اتَّبِعُواْ مَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ وَلاَ تَتَّبِعُواْ مِن دُونِهِ أَوْلِيَاء قَلِيلاً مَّا تَذَكَّرُونَ (3
    তোমরা অনুসরণ কর, যা তোমাদের প্রতি পালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে অন্য আউলিয়াদের অনুসরণ করো না। "

    এখানে বহুবচন আউলিয়া মানে কোরআন হাদিস বাদ দিয়ে পরামর্শ দানকারী ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে।
    ---------------------------------------------------------------------------------
    => সূরা হামিম আস সিজদা এর ৩১ নং আয়াতে ফেরেশতারা বলে "নাহনু আউলিয়া উকুম ফিল ফায়াতিদ দুনিয়া" অর্থ্যাৎ আমরাই (ফেরেশতারাই) তোমাদের আউলিয়া দুনিয়াতে এবং আখিরাতে।

    এখানে আউলিয়া মানে সাহায্যকারী।
    ---------------------------------------------------------------------------------

    => সূরা আরাফ এর ৩০ নং আয়াতে বলা হয়েছে

    তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে শয়তানকে আউলিয়া বানিয়ে নিয়েছে।

    এখানে আউলিয়া মানে বন্ধু।
    ---------------------------------------------------------------------------------

    => সূরা আনকাবুত এর ৪১ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন

    "যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্য কে আউলিয়ারূপে গ্রহণ করে তাদের দৃষ্টান্ত মাকড়সা"

    এখানে আউলিয়া মানে সাহায্যকারী।
    ---------------------------------------------------------------------------------

    সূরা বাকারা-২৫৭ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন

    যারা ঈমান এনেছে তাদের অলি (অভিভাবক) আল্লাহ। তিনি তাদেরকে বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে। আর যারা কুফুরী করে তাদের আউলিয়া (অভিভাবক) তাগুত (আল্লাহর বিদ্রোহী হোক সেটা আদেশের মাধ্যমে বা আইন কানুন এর মাধ্যমে)। সে তাদের কে আলো থেকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়।

    এখানে আউলিয়া মানে অভিভাবক।
    ---------------------------------------------------------------------------------

    => সূরা নিসা-৭৫ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, "তোমাদের কি হলো তোমরা আল্লাহর জন্য যুদ্ধ করছ না দুর্বল সেই পুরুষ নারী ও শিশুদের পক্ষে যারা বলে হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান কর, জালিম জাতি থেকে আমাদের রক্ষা কর। আমাদের নিকট তুমি তোমার আউলিয়া পাঠাও।

    এখানে কি বাবে রহমতের পেট মোটা কোন পীর, বুজুর্গের কথা বলা হচ্ছে নাকি একে-৪৭ ধারী সেই যুদ্ধার কথা বলা হচ্ছে। এখানে আউলিয়া বলতে বলা হচ্ছে মুজাহিদদের কথা। কোন পেট মোটা পীর এর কথা না। না শাহজালাল না শাহপরান। মানুষ যখন সন্ত্রাসীদের কবলে পড়ে তখন বলে বাঁচাও বাঁচাও মানে যদিও সে বাঁচতে চায় তবুও সে চায় কোন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে রক্ষা করুক।

    লিখেছেনঃ Abdullah Arif Muslim

    আমেরিকান ধর্ম যাজক ইউসুফ এসতেসের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার কাহিনী

    বিসমিল্লাহ ওয়াল হামদুলিল্লাহ ওয়াসসালাতু ওয়া সালাম রাসূলিল্লাহ ওয়া আলা আ'লিহি ওয়া সাহাবী আজমানইন আশহাদু আল্লাহ ইলাহা ইললাল্লাহু ওয়াদাহু লা'শারীকালা ওয়াশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু। আসসালামু আলাইকুম। আমার নাম ইউসুফ। আপনারাও ইউসুফ বলেন তারাও ইউসুফ বলে। আমি আমার স্ত্রীকে ইউসুফ নামটা শেখাতে চেষ্ট্রা করতাম কিন্তু সে প্রায়ই ভুল উচ্চারণ করতো, সে বলতো , 'ইউসলেস'। হা, হা, হা। আমাকে অনেকেই জিজ্ঞাসা করে থাকেন মুসলিম, খ্রিস্টান উভয়েই যে আমি কিভাবে মুসলিম হলাম।
    খ্রিস্টানরা যখন শুনে তখন তারা অবাক হয়, তারা বলে, তুমি একজন প্রিচার ছিলে! তুমি জিসাসকে চিনতে পারনি? কামান ম্যান। খ্রিস্টান ধর্মে যারা ধর্মীয় বাণী প্রচার করে তাদের প্রিচার বলা হয়, কোন কোন সময় প্রিস্টও বলা হয়ে থাকে তবে প্রিস্ট বলতে সাধারণত বুঝায় যারা ক্যাথলিক চার্চে থাকে, ক্যাথলিক ছাড়া কেউ প্রিস্ট হতে পারে না, প্রটোস্ট্যান্ডদের বলা হয় পাস্তুর, মিনিস্টার, রেভারেন্ড, প্রিচার। আমি একজন প্রিচার এবং মিউজিকের মিনিস্টার ছিলাম। আমি এবং আমার বাবা উভয়েই মিনিস্টার ছিলাম এবং আমরা দু'জনেই ব্যবসা করতাম। আমাদের কাছে ব্যবসাটাই বড় ছিল, মানে ব্যবসাটিকেই আমরা বেশী প্রাধান্য দিতাম। ব্যবসা করার পর সময় পেলে আমরা প্রিচারের কাজ করতাম। আমাদের ব্যবসা বিস্তৃত ছিল টেক্সাসে, ওয়াইহিসহ আরো অনেক এড়িয়াতে। আমাদের ব্যবসার ধরণটা ছিল আমরা মানুষের নিকট থেকে জিনিস নিয়ে বিক্রি করতাম যেমন হ্যান্ডিক্রাফ্ট, বিশেষত মহিলারা এগুলো বানিয়ে আমাদের নিকট দিত আর আমরা এগুলো বিক্রি করতাম আর তাতে আমাদের সেই সাথে তাদেরও ভালই লাভ হতো। একদিন আমাকে বাবা বললো আমরা ইজিপ্টে ব্যবসা করবো। আমি বললাম, এটাতো খুব ভালো হয়, আমরা ইন্টারন্যাশনাল ব্যবসা করব। বাবা আরো বললেন, আমরা ইজিপ্টের যে লোকের সাথে ব্যবসা করবো সে কায়রোর অধিবাসী; তাদের পিড়ামিড আছে, নীল নদ আছে; আমি বললাম সেটা তো খুবি ভাল। সবশেষে আমরা বাবা বললেন, সে একজন মুসলিম! আমি এ মুহুর্তটা কখনই ভুলতে পারি না, আমি ডাইনিং আর কিচেনের মাঝে দাড়িয়ে বাবার সাথে কথা বলছিলাম, কিন্তু যখন শুনলাম সে একজন মুসলিম! আমি বললাম, সে একজন মুসলিম! নো ওয়ে, আমি তার সাথে ব্যবসা করবো না। হেই ড্যাড কামান, তোমার এই ব্যাপাড়ে অন্যদের চেয়ে বেশী জানা উচিত। আমরা প্রিচার আর সে হচ্ছে গডের একজন শত্রু! আমাদেরকে এভাবেই শেখানো হতো, বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে তারা মুসলিমদের সম্পর্কে খারাপ কথাগুলো প্রকাশ করতো, মুসলিমরা কখনই ভাল না। এখনতো মুসলিমদের ঢালাওভাবে টেরোরিস্ট বলা হয় কিন্তু তখন মুসলিম মানেই ছিল হাইজ্যাকার, কিডন্যাপার। তারা আমাদের শিখাতো মুসলিমরা কোন গডে বিশ্বাস করে না! তারা মরুভুমিতে অবস্থিত একটা কালো বাক্সের পূজো করে আরা তারা দিনে পাঁচবার মাটিতে চুমো দেয়। মুসলিমদের ব্যাপাড়ে আমরা এটুকুই জানতাম! আমাদের এভাবেই শিখানো হতো। আর এই মুসলিম আমাদের সাথে ব্যবসা করবে! আমি বাবাকে বললাম না আমি করবো না কিন্তু তিনি আমাকে বললেন তুমি তার সাথে দেখাতো কর, সে খুবই একজন চমৎকার মানুষ। কিন্তু আমি কিছুতেই রাজি হচ্ছিলাম না কারণ আমি কিছুতেই বিষয়টি মেনে নিতে পারছিলাম না। বাবা বললেন, আমি চাই তুমি তার সাথে দেখা শুধু দেখা কর। আমি বললাম, ঠিক আছে আমি দেখা করব। আমি এটি শুধু তোমার জন্য করব। এরপর আমি চিন্তা করলাম আমি যেদিন তার সাথে দেখা করব সেদিন আমি প্রথমে চার্চে যাব তারপর আমার ডান হাতে থাকবে বাইবেল, বুকের উপর ঝুলানো থাকবে বেশ বড় একটা ক্রুশ, মাথায় থাকবে একটা ক্যাপ, যাতে লেখা থাকবে, 'জিসাস ইজ দা লর্ড', আমার সাথে থাকবে আমার খ্রিস্টান স্ত্রী, আমরা মুসলিমটাকে দেখিয়ে ছাড়ব জিসাস কে?

    সেইদিনটি আসল, আমি চার্চে গেলাম; চার্চে সেদিন ওল্ড টেস্টামেন্ট থেকে দাউদ (আ) এর স্যালভেশনের কাহিনী বলা হয়েছিল, আমার মাথায় একটা কথা ঢুকে গেল, দাউদ (আ) এর স্যালভেশন! কিন্তু স্যালভেশনতো শুধু জিসাসের জন্য। (খ্রিস্টান ধর্মে কারো স্যালভেশন বলতে বুঝায়, যে সে শয়তানের স্প্রিট থেকে মুক্ত কারণ জিসাস এরজন্য ক্রসের উপর মারা গিয়েছিলেন।) যাই হোক, তারপর আমি বাবার অফিসে গেলাম, আমি আশা করেছিলাম যে সাদা লম্বা কাপড় পড়া, বিশাল লম্বা দাড়িওয়ালা, কালো কোট পরিহিত, তলোয়ার খাপ সহকারে কাউকে দেখবো। কিন্তু আমি সেখানে সেরকম কাউকে দেখতে পেলাম না। আমি বাবাকে বললাম, কোথায় সে ব্যাক্তি ? বাবা বললেন, তোমার পাশেই তো! আমি দেখলাম, খুবই সাধারন একজন মানুষ আমাদের মতই। আমি হাত মিলিলাম, জিজ্ঞেস করলাম, হাও ডু ইউ ডু? তুমি কেমন আছ? তারপর সেও আমার সাথে হাত মিলাল আর বললো যে তার নাম, মুহাম্মাদ। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি গডে বিশ্বাস কর? সে বললো, হ্যা অবশ্যই করি! আচ্ছা, গডের নবী মুসা, ইব্রাহিম? সে বললো, জ্বী আমি করি! আমি মনে করলাম সে হয়তো কথার কথা হিসেবে আমার সাথে স্বীকার করে যাচ্ছে তাই আমি তাকে জিজ্ঞেস কররাম, জিসাসের ব্যাপাড়ে? সে বললো, আমি করি! এরপর আমি চিন্তা করলাম এর সাথে তো ব্যবসা করা যায়, কোন সমস্যা নেই। আমি তার সাথে চা পান করতে করতে অনেক বিষয় নিয়ে আলাপ করলাম আর যেহেতু আমি প্রিচার ছিলাম তাই তাকে বাইবেল থেকে অনেক কিছু বলতে লাগলাম। আমি জেনেসিস অধ্যায়টি খুললাম, আর তাকে বললাম, চল ইব্রাহিম নিয়ে আলোচনা করি.... ইব্রাহিমের দুইটি ছেলে ছিল.....। শুনে সে শুধু বললো, হুমমম...। সে কায়রোর আল আজহার ইউনিভার্সিটির একজন গ্রাজুয়েট ছিল।

    এরপর তার সাথে আমার আরো একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছিল রমাদান মাসে। সে তার বন্ধুদের সাথে থাকতো কিন্তু তার বন্ধুরা হঠাৎ তাদের থাকার জায়গা পরিবর্তন করলো আর তাই সে সিদ্ধান্ত নিল যেহেতু রমাদান মাস তাই সে মসজিদে ইতিকাফে বসবে। আমি তখন ইতিকাফের ব্যাপাড়টি নিয়ে কিছুই জানতাম না। আমি মনে করেছিলাম তার কোথাও থাকার জায়গা নেই তাই সে মসজিদে যাচ্ছে। আমি আমার বাবাকে ব্যাপড়টি বললাম, আর বললাম সে আমাদের সাথে এসে থাকুক। কিন্তু বাবা বললেন, তার তো টাকা আছে! আমি বললাম নেই, না হলে সে মসজিদে থাকবে কেন? আমরা খ্রিস্টানরা কি কখনো চার্চে থাকি? ওহ... কি বিপদেই না সে পড়েছে! বাবা বললেন, না তোমার কিছু করার দরকার নেই। আমি বললাম, তাকে বলে তো দেখি! তাই আমি তাকে আমাদের বাসায় এসে থাকার জন্য অফার করলাম কিন্তু সে তাতে রাজি হল না সে বললো মসজিদে তাকে থাকতে হবে এবং সেখানে তাকে কিছু ভাল কাজ করতে হবে। আমি মনে করলাম ব্যাপাড়টি বোধহয় তার আত্মসম্মানে বাধা দিচ্ছে তাই আমি তাকে বললাম, ঠিক আছে তুমি আমাদের বাসায় পে করে থাক! সে বললো কত? আমি বললাম, সপ্তাহে ১৫ ডলার! আমেরিকাতে ১৫ডলার মানে কিছুই না। সে একটু ইতস্তত করতে লাগলো! আমি তাকে বললাম, ১৫ ডলার শুধু থাকার জন্য খাবারের ব্যাপারটি আলাদা। সে তখন রাজি হল। এরপর আমি বাবাকে বললাম, দেখলে তো আমি কিভাবে তাকে রাজি করালাম। সে এখন পুরো ব্যাপাড়টি টাকা পে করার মাধ্যমে বিবেচনা করছে। পরে আমি বিষয়টি জানতে পেরেছিলাম যে সে আসলেই আমাদের সাথে থাকতে চেয়েছিল আমারিকানদের জীবন-যাপন বিশেষভাবে সে জানতে চেয়েছিল প্রিচাররা কিভাবে দাওয়া দেয় এবং তাদের লাইফ স্টাইল।

    এরপর সে আমাদের বাসায় এসে থাকতে লাগল। আমি তার সাথে বিভিন্ন জায়গায় যেতাম আর সে ধীরে ধীরে খ্রিস্টিয়ানিটি সম্পর্কে জেনেছিল। আমরা ব্যবসার জন্য একসাথে ভ্রমণ করতাম আর আমরা একটি লম্বা টেবিলের উপর জিনিসগুলো রেখে বিক্রি করতাম। মানুষজন এসে টেবিলের উপর জিনিসগুলো দেখতো আর যখন তারা কিনতে চাইতো টেবিলের উপর রাখা কোন জিনিস তখন সে তার ব্যাগ থেকে বের করে নতুন জিনিসটি তাদেরকে দিতো। প্রথমদিকে আমি শুধু লক্ষ্য করতাম কিছু বলতাম না। এরপর একসময় আমি তাকে বললাম, হেই মুহাম্মাদ, তুমি ব্যাগ থেকে বের করে নতুন জিনিস কেন বিক্রি করছ? টেবিলের উপর রাখা জিনিসগুলো পুরোনো সেগুলো আগে বিক্রি হওয়া দরকার। আগে পুরাতন গুলো শেষ হোক তারপর নতুনগুলো। কিন্তু সে বললো, আমার ধর্ম আমাকে এমনটি শেখায় না! আমার ধর্ম আমাকে বলে, ব্যবসার সময় জিনিস বিক্রয়ের ক্ষেত্রে তুমি মানুষকে সর্বোত্তম জিনিসটি দিবে! আমি শুনে একটু অবাক হলাম..কি বলবো ভেবে পেলাম না.... ওকে, হোয়াটএভার!

    তার সাথে থাকতে থাকতে আমি অনেক কিছু শিখতে লাগলাম। আর বিশেষ করে যে বিষয়টি ভাল লাগতো তা হলো আল্লাহর নিকট বিনয় প্রকাশ! আসলে সে অনেক জ্ঞানী ব্যক্তি ছিল। আমি তার সাথে অনেক বিষয়ে তর্ক করতাম কিন্তু সে ছিল অনেক বুদ্ধিমান আর জ্ঞানী ব্যক্তি, সে বিতর্কগুলোতে সবসময়ই আমাকে জিততে দিতো। আমি তার সাথে যে কোন বিতর্কে জিততাম। কিন্তু সে যদি আমাকে হারাতে চাইতে তাহলে সে সহজেই হারাতে পারতো! সে এভাবেই দক্ষতার সাথে আমার সাথে ব্যবসা করে যাচ্ছিল।

    আমি আরো একজন প্রিচার কে চিনতাম, যে তার বাম কাধে বেশ বড় আকারের একটা ক্রুশ নিয়ে ফুটপাথ দিয়ে ঘুরে বেড়াতো আর লোকজন তাকে থামিয়ে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কথা বলতো। সে একদিন হার্ট এট্যাক করলো তাই তাকে হাসপাতালে যেতে হয়েছিল। তাই আমি তাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম আর যখন আমি তার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম তখন আমার আরো একজন লোকের সাথে দেখা হল যে হুইল চেয়ারে বসা ছিল। এই ভদ্রলোকের একটা সমস্যা ছিল, সে কারো সাথে কথা বলতে চাইতো না। আমি তাকে বললাম, আমি তোমাকে জিসাসের কাহিনী শুনাই তোমার অনেক ভাল লাগবে। আমি আমার বাইবেলটি বের করলাম। আমি তাকে নবী ইউনুস (আ) এর কাহিনী বলতে লাগলাম। আমি আরো বললাম দেখ, তাকে মাছের পেটে কতদিন থাকতে হয়েছিল! তার তোমার চেয়ে অনেক বড় সমস্যা হয়েছিল এবং গড তাকে বাঁচিয়েছিলেন সুতরাং গড তোমাকেও বাঁচাবে। সে শুধু বললো, হুমমমম.... সে আমার সাথে কথা বলতে চাইছিল না। আমি তাকে বললাম, তোমার নাম কি? সে আমাকে তার নাম বললো না! আমি তাকে বললাম, তুমি কোথা থেকে এসেছ? সে বললো আমি বিনাস থেকে এসেছি! আমি একটু অবাক হলাম, বিনাসটা আবার কোথায়? যদিও টেক্সাসে বিনাস বলে একটা এড়িয়া ছিল। সে আমাকে বললো, অন্য গ্রহ থেকে!

    এরপর আমি প্রায়ই তার সাথে দেখা করতে যেতাম আর বাইবেল থেকে কাহিনী বলে শুনাতাম। একদিন আমি তাকে হুইল চেয়ার ঠেলে ঘুরাচ্ছিলাম হঠাৎ সে কাঁদতে শুরু করলো। সে বললো, আমি তোমার কাছে আমার অপরাধের(কনফেস) কথা বলবো আর তুমি আমার ক্ষমা করার ব্যবস্থা করে দিবে। ক্যাথলিক চার্চে প্রিস্টের নিকট অপরাধের(কনফেস) কথা বলা হয় আর প্রিস্ট তাকে তার ক্ষমা করার ব্যবস্থা করে দেন! আমি ক্যাথলিক ছিলাম না, আমি তাকে বললাম, দেখ আমি প্রিস্ট নই, আমি একজন প্রিচার। সে বললো আমি জানি, তুমি এটা ভাল করতে পারবে, আর আমি একজন প্রিস্ট! আমি বললাম, ওহ মাই গড! মনে মনে বললাম, এই ভদ্রলোক একজন প্রিস্ট! তার বাইবেলের জ্ঞান আমার চেয়ে অনেক বেশী। সে বললো, আমার একটি কঠিন সময় অতিবাহিত হচ্ছে, আমার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল, আমি অনেক সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিলাম, আমি হাসপাতালে ছিলাম, আমি ক্ষমা প্রার্থী বলে সে কাঁদতে লাগলো। যখন সে কাঁদতে শুরু করলো আমি খুব ব্যাথিত হলাম আমি বলাম ঠিক আছে।

    আমার বন্ধু হাসপাতালে থাকা অবস্থায় আমি প্রায়ই যেতাম আর সে হাসপাতার থেকে চলে যাওয়ার পরও আমি যেতাম ঐ লোকটির সাথে দেখা করার জন্য। একদিন আমি হাসপাতালে গেলাম, যেয়ে জানতে পারলাম লোকটি চলে গেছে! আমি হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করলাম, সে কোথায় গেছে? নার্স বললো, সে বাড়িতে চলে গেছে। বাড়িতে চলে গেছে! সে সাউথ আমেরিকার একজন মিশনারী প্রিস্ট(ফাদার), সে কিভাবে বাড়িতে যেতে পারে? সে বললো, সে তার পরিবারের নিকট চলে গেছে। আমি বললাম, আমি তাকে চিনি, আর তার কোন পরিবার নেই, সে কোথায় যাবে? নার্স বললো, আমি জানি না আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এর জন্য দায়ী নয়। আমি বললাম, ঠিকআছে আমাকে তার ডকুমেন্টগুলো দেখতে দাও। নার্স বললো, আমি তা করতে পারবো না, ফাইলগুলো তালাবদ্ধ আর ঐগুলো বাইরের কেউ দেখতে পারে না। আমি নার্সটির মুখোমুখি হলাম আর বললাম, দেখ এই লোকটি যে কোন সময় রাস্তায় মারা যেতে পারে আর তখন এর জন্য তুমি দায়ী হবে। সে বললো, ঠিক আছে, ফাইলগুলো ঐ জায়গায় আছে ধরা পড়লে আমি কিছু জানি না, আমি অন্যদিকে তাকিয়ে থাকলাম। আমি ফাইলে দেখলাম সে কোন ঠিকানার কথা লিখে গেছে, আমি দেখলাম সে এমন এক জায়গায় গেছে যেখানে মানুষ সাধারণত যায় যাদের কোন থাকার জায়গা থাকে না।

    আমি সে জায়গায় গেলাম, আমি তার দেখা পেলাম, সে ক্র্যাচে ভার দিয়ে হাটছিল। সে আমাকে দেখে কাঁদতে লাগলো আর বলতে লাগলো আমাকে এই জায়গা থেকে উদ্ধার কর। আমি তাকে বললাম ঠিকআছে তুমি আমার বাড়িতে আস। এখন আমার বাড়িতে দুইজন অতিথি হল, একজন হল ক্যাথলিক প্রিস্ট আর অন্যজন হল মুসলিম। আমি চিন্তা করেছিলাম, আমি প্রিস্টকে প্রোটোস্ট্যান্ট বানাবো আর সেই সাথে মুসলিমটিকেও খ্রিস্টান বানাবো! এই ব্যাপাড়ে আমার খুবই উচ্চ আশা ছিল কিন্তু আমি যা আশা করেছিলাম সে অনুযায়ী আসল ঘটনা ঘটে নি। কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে শুরু করেছিল।

    আমরা রাত্রে খাওয়ার টেবিলে আলাপ আলোচনা করতাম যেমন, বাইবেল কাকে বলে? স্যালভেশন কি? আমার বাবার কাছে যে বাইবেলটি ছিল সেটি ছিল কিং জেমস ভার্সন। আপনার হয়তো অনেকেই এই ভার্সনটির কথা শুনে থাকবেন। আর আমার কাছে ১৯৫৩ এর রিভাইসড স্ট্যান্ডার্ড ভার্সন এবং এর মধ্যে লেখা ছিল কিং জেমস ভার্সনে অনেকগুলো বড় বড় ভুল রয়েছে! প্রায়ই আমার বাবার সাথে বাইবেলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হতো, বাবা বলতেন, এই ব্যাপাটি এই রকম আমি বলতাম না ব্যাপারটি আসলে এই রকম! আমার স্ত্রীর কাছে ছিল জিমি সোওয়াগঢ় ভার্সন, এটি ছিল আরো ভিন্ন রকমের! আর ক্যাথলিক প্রিস্টের কাছে ছিল অন্য একটি ভার্সন যাকে বলা হয় ওল্ডার ভার্সন, তারা ডিয়াল করতো ৭৩টি বই নিয়ে আর আমরা ডিয়াল করতাম ৬৬টি বই নিয়ে! আর তার ভার্সনের সাথে আমার ভার্সনের অনেক অমিল ছিল এবং অনেক বিষয় ছিল যেগুলোতে কোন মিলই ছিল না। আমারা প্রায়ই একই বিষয় নিয়ে প্রত্যেকে ভ্ন্নি ভিন্ন মত পোষণ করতাম, আমি বলতাম একরকম, বাবা বলতো একরকম, প্রিস্ট বলতো এক রকম, স্ত্রী বলতো এক রকম আর মুহাম্মদ এক পাশে চুপ করে বসে থাকতো। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তোমার কুরআনের কতগুলো ভার্সন রয়েছে? সে বললো, কুরআনের কোন ভার্সন নেই, এর একটিই মাত্র অর্জিনাল ভার্সন যা আরবী ভাষায় রচিত হয়েছিল আর আরবী ভাষা এখনো বহাল তবিয়তে বর্তমান রয়েছে! এই বইতে রয়েছে পথ নির্দেশনা তাদের জন্য যারা তাকওয়া সম্পন্ন। আর ভাল লোকেরাই এর থেকে হেদায়াত পেতে পারে। কিন্তু যখন সে বললো, এর একটি মাত্র ভার্সন আছে, আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম! সে আরো বললো, এটি এর অর্জিনাল আরবী ভাষায় রয়েছে। আমি মনে করলাম সে মিথ্যা বলছে, সে অবশ্যই মিথ্যা বলছে এবং সে সম্ভবত এই কথা বলছে এই জন্য যে সে আমাদের দেখেছে আমরা কিভাবে একে অপরের সাথে বিরোধ করছি! আর আমি তখন আরবী ভাষা জানতাম না তাই আমি বুঝতে পারলাম না আমার আসলে কি বলা উচিত, হতে পারে অর্জিনাল, আই ডোন্ট নো! সে আমাদের আর কিছু বলে নি কিন্তু সে আমাদের মাথায় একটা চিন্তা ঢুকিয়ে দিয়েছিল, তার কুরআনের ভার্সন মাত্র একটি আর আমাদের এতগুলো!

    অন্য একসময় আমাদের একটা আলোচনা হয়েছিল ঐ প্রিচের সাথে যে ক্রস নিয়ে ঘুরে বেড়াত, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আমি ট্রিনিটি সম্পর্কে জানতে চাই। সে বললো, তুমিতো জান ট্রিনিটি কি? আমি জানি তবে আমি আরো ক্লিয়ার ব্যাখ্যা জানতে চাই যাতে আমি অন্যদের কাছে ভালভাবে এটি বর্ণনা করতে পারি। তখন সে বললো, আচ্ছা ঠিক আছে, ব্যাপারটি একটা আপেলের মত, আপেলের চারপাশে থাকে সেপ বা স্কীন আর এরপর থাকে নরম অংশ আর তারপর থাকে বীজ, তিনটি অংশ কিন্তু একটি আপেল। এই ব্যাখ্যা শোনার পর মুসলিম লোকটির নিকট যাচ্ছিলাম ট্রিনিটি ব্যাখ্যা করার জন্য কিন্তু যাওয়ার পথেই এই ব্যাখ্যাটি আমার নিজের কাছেই বেমানান মনে হলো কারণ আমি যখনই বীজের কথা বলবো তখন নিশ্চয় মুসলিম লোকটি বলবে আপেলের বীজ অনেকগুলো থাকে সুতরাং তিনটি জিনিস হল কোথায়? তাহলে কি তোমাদের গড অনেকগুলো? নো নো নো, এভাবে হবে না তাই আমি আবার প্রিচের নিকট ফিরে গেলাম এবং তাকে বললাম যদি কেউ বলে আপেলের অনেকগুলো বীজ থাকে তখনতো এই যুক্তি খাটবে না। তখন সে বললো আচ্ছা ঠিক আছে, ডিম দিয়ে তুমি ব্যাখ্যা করতে পারবে কারণ ডিমের চারপাশে থাকে খোলস, তারপর থাকে সাদা অংশ এবং এরপর থাকে হলুদ অংশ। তিনটি অংশ কিন্তু একই জিনিস। আমি মনে করলাম এইবার ঠিক আছে কিন্তু পথিমধ্যে আবার আমার মাথার মধ্যে অন্য একটি চিন্তা জেগে উঠলো, ডিমের মাঝে হলুদ অংশ অনেক সময় দুইটা থাকে তাহলে তো গড চারটি হয়ে গেল অথবা হলুদ অংশটি পচাঁ থাকতে পারে! নাহ আমি আর প্রিচকে জিজ্ঞেস করতে যাব না।

    এরপর একদিন বাজারে একটা লোকের সাথে কথা বলার সময় আমি ভাবছিলাম মুহাম্মদ বলেছিল, ইসলামে গড একজন আর তিনি আল্লাহ। তখন আমি লোকটিকে বললাম, তুমি জান, ট্রিনিটি বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে! সে অবাক হল, বললো তুমি কি আমার সাথে মশকরা করছ? তুমি একজন প্রিচার আর তুমি বলছ তোমর ট্রিনিটি বিষয়ে সন্দেহ হয়? আমি বললাম, তুমি চিন্তা করে দেখ ট্রিনিটি বলতে আসলে কি বুঝায়? নাহ এটা আসলে লজিক বিহীন, কিভাবে তিনজন একজন হতে পারে? তখন লোকটি বললো, ঠিক আছে, আমি তোমাকে জিনিসটি ব্যাখ্যা করছি, আমি একজন, আমার স্ত্রী অন্যজন আর আমার ছেলে আরেকজন কিন্তু আমরা তিনজনে মিলে এক, একটা পরিবার। এটা হচ্ছে গডের ফ্যামিলি, তুমি ব্যাপারটিকে এইভাবে চিন্তা কর। কিন্তু এই বিষয়টি ট্রিনিটি ব্যাপারটিকে আরো অধিক সন্দেহযুক্ত করে তুললো। কারণ যদি ডিভোর্স হয়! ধর তোমার ডিভোর্স হল, তোমার স্ত্রী তোমার সব সম্পত্তির মালিক হয়ে গেল তখন তোমার আর কি থাকল? না না এভাবে হবে না, আমি ট্রিনিটি বিষয়ে সঠিক ব্যাখ্যা চাই।

    এরপর থেকে আমি পুরো বিষয়টি আরো ভালভাবে চিন্তা করলাম কিন্তু এই ব্যাখ্যাগুলোর কোনটিই আমার যুক্তির নিকাট টিকতে পারলো না, তাহলে আমি অন্যকে বুঝাবো কি করে? আমি মুহাম্মদকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি গডের ব্যাপাড়ে কি চিন্তা কর? সে বললো, আউযু বিল্লাহিমিনাশ শায়তনির রাজিম, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম, কুলহু আল্লাহু আহাদ; আল্লাহুস সামাদ; লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ; ওয়ালাম ইয়া কুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ। তখন সে ব্যাপরটিকে এইভাবে ব্যাখ্যা করল,
    বলুন, তিনি আল্লাহ, এক,
    আল্লাহ অমুখাপেক্ষী,
    তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি
    এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।
    আমিও আসলে বিষয়টি এইভাবে চিন্তা করেছিলাম কিন্তু আমি তো তা গ্রহণ করতে পারি না আর ব্যাখ্যাটি ছিল খুবই সহজ কিন্তু অনেক যুক্তিযুক্ত। মহান আল্লাহ কুরআনে আমাদেরকে বলতে বলেছেন, ডোন্ট সে থ্রি, ট্রিনিটির কথা বলো না। ওল্ড টেস্টামেন্ট মানে হচ্ছে তাওরাত, সং মানে হচ্ছে যবুর আর নিউ টেস্টামেন্ট মানে হচ্ছে ইন্জিল; এই তিনটির কোথাও ট্রিনিটি শব্দটি নেই, একটিবারও নেই! একটি বারও ট্রিনিটি শব্দটি নেই। কিন্তু এটি কুরআনে রয়েছে! এটি আমাদের বলছে, তাদের ট্রিনিটি বলতে না কর! আমাদের কোন বইয়ে ট্রিনিটি শব্দটি নেই কিন্তু আল্লাহ বলছেন, তোমরা ট্রিনিটি বলো না! তারপর, বাইবেল শব্দটি বাইবেলের কোথাও নেই! একটি বারের জন্য বাইবেল শব্দটি উল্লেখ নেই! বাইবেল শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ বিবলিয়োস থেকে যার মানে হচ্ছে, বুক বা বই। কিন্তু বই শব্দটি কুরআনে রয়েছে অনকেবার! এটি হচ্ছে, কিতাব! আহলে কিতাব, পিপল অব দি বুক অর্থাৎ আহলে কিতাবধারীরা। আমরা বাইবেলে যদিও কিছু পাই তাও খুবই সংক্ষিপ্ত আকারে কিন্তু কুরআন এ সে বিষয়গুলো আছে একেবারে ব্যাখ্যাসহ! কুরআন দিয়েই আমি বাইবেল অনেক ভালভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি কারণ বাইবেলে যা আছে তা দিয়ে আমি বিষয়গুলো পরিস্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি না! তখন এই ব্যাপারটি আমার মাথায় জেগে উঠলো, সে যা বলছে তাতো সত্য! কিন্তু আমিতো ব্যাপারটি গ্রহণ করতে পারি না।

    যাইহোক আমি বিষয়গুলো একত্রিত করলাম এবং আমার প্রিচিং এর বক্তৃতায় আমি বলতে লাগলাম আমি কুরআন থেকে যা শিখেছি তা বাইবেলের চেয়েও খুব সুন্দর করে ব্যাখ্যা করা আছে! অনেকেই আমার কথা পছন্দ করল আর অনেকেই পছন্দ করলো না। আর যখন আমি স্যালভেশন নিয়ে কথা বলছিলাম তখন আমি বলেছিলাম, আমাদের কোন রক্ষাকারী নেই একমাত্র গড ছাড়া আর এটি বাইবেলে উল্লেখ করা আছে। এটি একদম পরিস্কারভাবে উল্লেখ করা আছে, জিসাস তোমার রক্ষাকারী নন কিন্তু গড তোমার রক্ষাকারী! যখন আমি এই বিষয়টি পেলাম তখন আমি বললাম আমাকে বিষয়টি একটু অন্যভাবে ব্যাখ্যা করতে দাও। কিন্তু আমি যা করছিলাম তা সত্য গোপন করার মত আমি সত্যকে পরিবর্তন করে দিচ্ছিলাম। এই বিষয়ে আমাকে অবশ্যই কিছু করতে হবে। আমি বিশ্বাস করলাম গড মাত্র একজনই, আমি তাদের বললাম, ট্রিনিটির কথা ভুলে যাও। আমার বাবা কখনই ট্রিনিটি বিশ্বাস করতেন না! সুতরাং এই ব্যাপাড়ে তার কোন সমস্যা ছিল না।

    এরপর আর একটি নতুন ঘটনা ঘটল। প্রিস্টটি মুসলিমটিকে জিজ্ঞেস করল, আমি কি তোমার সাথে তোমাদের চার্চে মানে মসজিদে যেতে পারি? সে বললো, অবশ্যই কোন সমস্যা নেই, তুমি আসতে পার। সে গিয়েছিল এবং যখন ফিরে এসেছিল তখন আমি তাকে একদিকে নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, তারা সেখানে(মসজিদে) কি করে? আমাদের বল, তারা সেখানে কি করে? তারা কি কোন প্রাণী হত্যা করে সেই জায়গায়? কি করে তারা সেখানে? তখন সে বললো না, তারা বুকে হাত বেধে দাড়ায়, প্রার্থনা (নামায) করে আর এরপর তার মসজিদ থেকে বের হয়ে যায়! আমি তখন বললাম, হোয়াট? কি? তারা প্রার্থনা করে আর মসজিদ থেকে বের হয়ে যায়? প্রিস্ট বললো, হ্যা তাইতো। আমি বললাম, আচ্ছা ঠিকআছে, তারা কি রকম মিউজিক ব্যবহার করে? সে বললো, তাদের কোন মিউজিক নেই। নো মিউজিক, তুমি কিভাবে গডের প্রার্থনা করবে মিউজিক ছাড়া? ও ম্যান! এরপর আমি মুহাম্মদকে জিজ্ঞেস করলাম, মুহাম্মদ তোমাদের কোন মিউজিক নেই? সে বললো, না নেই। আমি পিয়ানো আর অর্গানের ব্যবসা করতাম। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, পৃথিবীতে কতগুলো মসজিদ আছে? সে বললো, মিলিয়ন! মিলিয়ন! মিলিয়ন!............ আমি জিজ্ঞেস করলাম, তাদের কোনটিতেই পিয়ানো নেই? সে বললো, নাহ! যে কোন ধরনের মিউজিক যন্ত্র? সে বললো, নাহ! আমি চিন্তা করলাম, আমি তো ধনী হয়ে যাব যদি তাদের মসজিদে মিউজিকের যন্ত্রপাতি সরবারহ করতে পারি! আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আরবদের কোন মিউজিক নেই? সে বললো, আরবদের মিউজিক আছে। আমি মনে মনে বললাম, আমি আমার পরবর্তী মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা দেখতে পাচ্ছি।

    এরপর একদিন, প্রিস্টটি আবার তাকে জিজ্ঞেস করলো, সে আবার মসজিদে যেতে চায়। সময়টি ছিল জুলাই মাসের মাঝামাঝি ১৯৯১। তারা এবার যে মসজিদে গিয়েছিল সেটি ছিল টেক্সাসে আর আমরা ডালাসের দক্ষিণে থাকতাম। সারা রাত আমরা তাদের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম, কিন্তু তাদের আর কোন খবর নেই! কি হল, আমরা চিন্তা করতে লাগলাম, যাই হোক, অনেক রাতে তারা ফিরে এল। যখন তারা ফিরে এল আমি মুহাম্মদকে চিনতে পারছিলাম কিন্তু পাশের জনকে চিনতে পারছিলাম না কারণ সে ছিল আরবদের মত পোষাক পরিহিত সাদা জুব্বা, মাথায় ছিল কাপড় আরবদের মত। যখন কাছে আসল, আমি বললাম, পি! প্রিস্টের নাম ছিল পিটার কিন্তু যেহেতু সে প্রিস্ট ছিল তাই আমরা তাকে ফাদার বলে ডাকতাম, নামধরে ডাকতে পারতাম না। আমি বললাম, পি, তুমি মুসলিম হয়েছ? সে বললো, আশ হাদু আল্লাহ ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলূল্লাহ! আমি বললাম, ও মাই গড! আমি তার সামনে ক্যামেরা ফিট করে তার ইন্টারভিউ নিতে চেয়েছিলাম যে সে কিভাবে মুসলিম হলো, কিন্তু মজার ব্যাপার হল, আমার ইন্টারভিউয়ের সময় সে ঘুমিয়ে পড়েছিল! হা, হা, হা।

    যাই হোক, ব্যাপারটি আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দিল। আমি এখন কি করব? আমি একজন প্রিচার যে মানুষকে ধর্মীয় কথা বলে চেন্জ করার চেষ্ট্রা করি আর এখানে একজন প্রিস্ট মুসলিম হয়ে গেল! আমার বাবা বললো, ভাল তো, তার কাছে ভাল লেগেছে সে গ্রহণ করেছে! আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না আমি কি করব! তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম আমি আমার স্ত্রীর সাথে কথা বলবো। আমাদের বাসা দু'তলা অ্যাপার্টমেন্ট ছিল আর আমরা দু'তলায় থাকতাম, আমি স্ত্রীকে সব খুলে বললাম, প্রিস্ট মুসলিম হয়েছে! এবং সে কুরআনের কথা বলছে! কিন্তু হঠাৎ করে আমার স্ত্রী বললো, আমি ডিভোর্স চাই! আমি অবাক হয়ে গেলাম, আমি বললাম, কি ঘটেছে? সে বললো, তোমরা ধর্ম নিয়ে কথা বলছ.... ইসলাম নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে... আমি থাকে থামিয়ে দিয়ে বললাম, নো নো নো এখানে কোন সমস্যা নেই! আমি শুধু তাদের পর্যকেক্ষণ করতেছিলাম, আমাকে বিশ্বাস কর, আমি মুসলিম হব না। সে তাও বললো, আমি ডিভোর্স চাই! আমি বললাম, আবার কি হল? সে বললো, একজন মুসলিম একজন খ্রিস্টানকে বিয়ে করতে পারে না। আমি তাকে বললাম, ওহ, আমার দিকে তাকাও, আমি প্রতিজ্ঞা করছি, আমি মুসলিম হব না। ঠিক আছে? সে বলেছিল, একজস মুসলিম একজন খ্রিস্টানকে বিয়ে করতে পারবে না, সুতরাং আমি তো মুসলিম হচ্ছি না, তাহলে সমস্যাটি কোথায়? সে তখন বললো, সেটাই তো সমস্যা, কারণ একজন মুসলিম নারী একজন খ্রিস্টান পুরুষকে বিয়ে করতে পারে না, আমি মুসলিম হতে চাই! তাই আমার ডিভোর্সের প্রয়োজন। আমি এই মুহুর্তের কথাটি কখনো ভুলবো না, আমি চিন্তা করলাম, শেষপর্যন্ত আমি সত্য কথাটি বলতে পারব! আমি ভাবিনি যে সে মুসলিম হওয়ার বিষয়টি পছন্দ করবে। আমি তখন বললাম, ঠিক আছে, ভাল খবরটি হচ্ছে, আমিও মুসলিম হতে চাই! কিন্তু সে আমাকে বললো, আমি তোমাকে বিশ্বাস করি না। আমি বললাম, আসলে ব্যাপারটি একটু অন্য রকম হয়ে গেছে, আমিও মুসলিম হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বলতে ভয় পাচ্ছিলাম, আর এখন আমরা দুই জনেই মুসলিম হবো, সুতরাং সবকিছুই আগের মত থাকবে, ঠিক আছে? কিন্তু সে বললো, হয় তুমি এখন মিথ্যা কথা বলছ বা পাঁচ মিনিট আগে মিথ্যা কথা বলেছিলে, তাই আমি কোন মিথ্যাবাদীকে বিয়ে করব না। (সো গেট আউট) বেড়িয়ে যাও!

    আমি ধীরে ধীরে সিড়ি দিয়ে নামছিলাম, তখন আমি চিন্তা করছিলাম, (ওয়েট এ মিনিট!) এটা আমার বাবার বাড়ি, আমি আমার বাড়ি ছেড়ে কোথায় যাব? আমি মুহাম্মদের নিকট গেলাম, তাকে ঘুম থেকে ডেকে তুললাম, আর তাকে বললাম, তোমার সাথে আমরা কথা আছে! আমার সাথে আস। আমরা বাসার বাইরে বের হলাম, গ্রামের রাস্তা ধরে হাটছিলাম, তখন ছিল সুবহে সাদিক এর সময়। আমি তাকে বললাম, কিভাবে মুসলিম হতে হয়, মুসলিমরা কিসে বিশ্বাস করে, আমাকে সবকিছু খুলে বল, আমি কোন তর্ক করতে চাই না, আমাকে সবকিছু খুলে বল! সে আমাকে সব কিছু খুলে বললো, আমি বললাম, আমরা এই পর্যন্তই জানা প্রয়োজন ছিল। আমি আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেল্লাম। সে আমাকে বললো, দেখ আমি কিন্তু তোমাকে কোন চাপ দিচ্ছি না, এটা সম্পূর্ণ তোমার নিজের ব্যাপার! তুমি নিজেই তোমার সিদ্ধান্ত নাও আমি তোমাকে জোর করতে পারি না! আমি যখন তাকে ফজরের নামাজ পড়তে দেখ লাম আমি অভিভূত হয়ে গেলাম, সে যখন সিজদায় গেল, সেই দৃশ্যটি ছিল খুবই সুন্দর। কি বিনয়, কি সুন্দর করে রাব্বিল আলামিনের কাছে আত্মসমর্পণ! আমিও তার মত করে সিজদা দিতে চাইলাম, আমি অন্য একটি রুমে গেলাম, যেখানে আমাকে কেউ দেখতে পাবে না, আমি সিজদায় চলে গেলাম, তখন আমার মুখ দিয়ে শুধু একটা শব্দই বের হল, ও গড আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত কর, ও গড তুমি যদি সেখানে থেকে থাক আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত কর! (ও গড গাইড মি! ও গড ইফ ইউ দেয়ার গাইড মি! ) আমি কতক্ষণ পর উঠে বসলাম, আমার চারদিকে তাকালাম, সেখানে কোন রেইনবো ছিল না, কোন অস্বাভাবিকতা ছিল না, কোন এন্জেল ছিল না! সব কিছুই স্বাভাবিক ছিল। এটা ছিল টেক্সাসের অন্যান্য দিনগুলোর মতই। কিন্তু আমার ভিতরে আমি বুঝতে পারলাম, সেখানে বেশ বড় একটি পরিবর্তন ঘটে গেছে! আমি সেটি অনুভব করছি! আমি বুঝতে পারলাম আমার কি করা উচিত। আমি আমার স্ত্রী, বাবার সাথে কথা বললাম, এরপর আমি গোসল করে পবিত্র হলাম, তখন সময় ছিল, সকাল ১০টা, আমি মুহাম্মদ আর নতুন মুসলিম ইয়াহিয়া ( আগে প্রিস্ট ছিল) সামনে দাড়িয়ে বললাম, আশ হাদু আল্লাহ ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলূল্লাহ! এবং ঠিক এর একটু পরেই আমার স্ত্রী শাহাদা(সাক্ষ্য) পাঠ করল, আশ হাদু আল্লাহ ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলূল্লাহ! এর কয়েকমাস পর আমার বাবা সত্যের সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। আশ হাদু আল্লাহ ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলূল্লাহ! ধীরে ধীরে আমরা অনেককেই ইসলাম গ্রহণ করতে দেখলাম।

    আমরা পুরো বিশ্বকে বলতে চাই, ইসলাম কি? আমরা চাই সবাই জানুক প্রকৃত ইসলাম কাকে বলে! আমরা কিভাবে অজানা থেকে যাব এই সুন্দর ধর্ম ইসলাম থেকে? আমাদের যে দায়িত্বটি হচ্ছে, মানুষকে জানাতে হবে। আমি মসজিদের ইমামদের বলতে চাই, মানুষকে জানান, মানুষকে বলেন ইসলামের কথা। এটা আমাদের কর্তব্য মানুষকে জানানো ইসলাম সম্পর্কে জানানো। আল্লাহ আপনাদের জিজ্ঞেস করবে না যে তারা শাহাদা পাঠ করেছিল কিনা কিন্তু আল্লাহ আপনাকে জিজ্ঞেস করবেন আপনি মানুষের কাছে ইসলামের বাণী পৌছিয়েছিলেন কিনা। আমি আপনাদের বলতে চাই, আমি হাজার হাজার মানুষকে শাহাদাত পাঠ করতে দেখেছি। আমি এটা বিতর্কের মাধ্যমে করি নি। আমি খ্রিস্টান প্রিচার ছিলাম, সুতরাং আমি উভয়দিক টিই জানি। আমি খ্রিস্টান হিসেবে প্রশ্ন করি আর মুসলিম হিসেবে উত্তর দিই। আমি এই কাজটি অনেকবার করেছি আর তাতে আমি অনেক ভাল ফল পেয়েছি। আমার কথা শেষ করার পূর্বে আপনাদের একটা ঘটনা বলি। আমি একবার হেগার্স টাউন ভার্জিনিয়ার চার্চে গিয়েছিলাম। এটি ছিল ১৯৯৯ এর ঘটনা। আমি সেখানে রবিবারদিন গিয়েছিলাম এবং বক্তব্য রেখেছিলাম আর আমি জানি খ্রিস্টানদের কিভাবে বুঝাতে হয় কারণ আমি নিজেই খ্রিস্টান ছিলাম, দুইজন মানুষ সেখানে তাৎক্ষণিক ইসলাম গ্রহণ করেছিল তাদের প্রিচারের সামনে, তারা বললো, আমরা বুঝতে পেরেছি আসলেই গড একজন। তাদের মধ্যে একজন ছিল সেই প্রিচারের মেয়ে! আমি আপনাদের একটা কথা বলি, আমি যদি সেখানে চার্চে বিতর্ক করে প্রিচারকে অপদস্থ করতাম তাহলে কি সে কখনও আমার সাথে কথা বলতে চাইবে? না কখনো নয়। আমি তাদের সাথে খুবই ভাল ব্যবহার করেছিলাম যার কারণে তিনমাস পরে তারা আবার আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল সেখানে গিয়ে বক্তৃতা করার জন্য। আপনাদের যে কথা বলে আমার কথা শেষ করব, আল্লাহর দিকে মানুষকে ডাকা, এটা আমাদের কোন কথা নয়, এটা আল্লাহর কথা আর আল্লাহ যাকে চান তাকে হিদায়াত করেন। আমরা এখানে জোর করতে পারি না। আমাদের দায়িত্ব মানুষের কাছে সুন্দরভাবে ইসলামের দাওয়াত পৌছে দেওয়া। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমীন!


    (ব্লগার আব্দুর রহমান ভাইয়ের ব্লগ থেকে সংকিলত)